করোনায় চাঁদপুরের কর্মহীন ও দুঃস্থ মানুষের জন্যে ২ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ

ছবি পরিচিতি : জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভার ফাইল ছবি।

 

ধর্ষণ মাদক চুরি ডাকাতির বিষয়ে সামাজিকভাবে মীমাংসা করতে যাবেন না : পুলিশ সুপার

নিজস্ব প্রতিবেদক :
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেছেন, চলমান করোনা মহামারীর সময়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং প্রশাসনিক দৈনন্দিন কর্মকান্ডগুলো সম্পাদনে প্রশাসন বসে নেই। আমাদের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ অন্যান্য সরকারি বিভাগগুলো কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে নানা কাজে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত হতে দেখা যাচ্ছে না। অথচ করোনার এই দুঃসময় ছাড়া অন্যান্য সময়ে সকল সমস্যা বিপর্যয়ে জনপ্রতিনিধিদের সর্বাত্মক অংশগ্রহণ জরুরী।

তিনি বলেন, জনগণকে আপনাদেরকেই বেশি কাছাকাছি পায় এবং আপনাদের কথা তারা মেনে চলে। কারণ, আপনারা তাদেরকে চিনেন, জানেন এবং কাছে থাকেন। তাই এই সময়ে আপনাদের ভূমিকা অনেক বেশি রাখতে হবে। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি বিশের করে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে আসেন তাহলে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে যে কোন সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। এখনও অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না। এই অবস্থা চলতে থাকলে করোনার কারণে মানবিক শুরু হলে তা ঠেকানো অসম্ভব। তাই তিনি সকলকে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানান।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের সভাপতিত্বে জুম অ্যাপের মাধ্যমে জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, জনগণকে সচেতন করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন একত্রে কাজ করে যাচ্ছে। চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকগণ জনসচেতনায় কাজ করে যাচ্ছে। তারা এই মহামারীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে প্রচারণা এবং মাস্ক বিতরণ করে যাচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা মাস্ক বিতরণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে প্রচারণা চালাতে পারেন। করোনা রুখতে মুখে মাস্ক পড়া অন্যতম কার্যকরী ব্যবস্থা এবং সরকারি নির্দেশনা।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি, বাজার তদারকিতে জেলা প্রশাসনের ৪টি মোবাইল কোর্ট কাজ করে যাচ্ছে। উপজেলাগুলোতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা জীবনের ঝঁকি নিয়ে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছে। তারা তাদের পরিবার-পরিজনকেও সময় দিতে পারছেন না। বেশির ভাগ জনই তার কর্তব্য কাজে নিরলস পরিশ্রম করছেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, করোনার কারণে আমাদের জীবনধারণের অনেক কাজই স্থবির হয়ে আছে, এই স্থবিরতা থেকে মুক্তি পেতে জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজসহ অন্যরা উদ্যোগী না হলে আমরা পিছিয়ে যাবো। যারা এখনও করোনার টিকা নেননি, তাদেরকে সময় মতো টিকা নেয়ার তিনি আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসক সভায় অবহিত করেন, প্রধানমন্ত্রী করোনা অতিমারীতে চাঁদপুরের কর্মহীন ও দুঃস্থ মানুষের জন্যে প্রথম ধাপে ২ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা এবং পরবর্তীতে আরো দুই ধাপে ৩২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। উক্ত টাকা উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে পাঠানো হয়েছে এবং অতি দ্রুত তা বন্টন করা হচ্ছে। এই টাকা যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা পান সেজন্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার উপহার হিসেবে ২৫০০ টাকা করে তালিকাভুক্ত দুঃস্থ ও কর্মহীনদের মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে টাকা দিচ্ছেন। যা সরাসরি সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ বিপিএম (বার) তার বক্তব্যে বলেন, ধর্ষণ, মাদক, চুরি, ডাকাতির বিষয়ে কেউ সামাজিকভাবে সমাধান বা মীমাংসা করতে যাবেন না। ধর্ষণ বা মাদকের কোন ঘটনা ঘটলে মীমাংসার উদ্যোগ না নিয়ে অপরাধীকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করুন। তিনি গত শনিবারের ফরিদগঞ্জের একটি ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখ্য করে বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে শালিস মীমাংসায় বসে কোন সমাধান না হওয়ায় পরবর্তীতে পুলিশকে জানানো হয়। কিন্তু ওই সুযোগে আসামী পালিয়ে যাওয়ায় আসামী ধরতে পুলিশকে অনেক বেগ পেতে হয়।

তিনি বলেন, মাদক ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় অনেক মাদক নিয়ে আটক হওয়ার পর ছাড়া পেয়ে অনেকে আবার সেই ব্যবসায় জড়িয়ে পরে। এমন অনেক আসামি আমরা চাঁদপুরে ধরেছি। এর মধ্যে একজনের নামে ১৭টি মাদক মামলা রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে সামাজিক উদ্যোগও সচেতনতা তৈরি করতে হবে। মাদক, চুরি, ডাকাতির বিষয়ে পুলিশ জিরো টলারেন্স গ্রহণ করেছে। চাঁদপুরের যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থা বিষয়ে তিনি বলেন, চাঁদপুরে সিএনজি ও অটোরিক্সার বৈধ কোন স্ট্যান্ড নাই। আমরা পৌর মেয়র ও বিআরটিএন্ডকে বলেছিলাম বৈধ এবং অবৈধ গাড়িগুলোকে রং করেদিন। যাতে এগুলো সহজে চেনাযায়। এ জিনিসটি করা গেলে একটি বড় পদক্ষেপ নেয়া যেত। কিন্তু তা হচ্ছে না। এ বিষয়ে তিনি আবারও সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান। ট্রাফিক বিভাগে লোকবল সঙ্কট থাকায় প্রয়োজন অনুপাতে সে হারে লোকবল মোতায়েন করা যায় না। শহরের বিপণী বিতানগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। যেখানে কোন স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। এই অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। আমরা আজ থেকে এই বিষয়ে আরো কঠোর অবস্থানে যাচ্ছি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল তার বক্তব্যে বলেন, চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচন্ডী ইউনিয়নের আনন্দবাজার খালটি ভরাট করা ফেলা হচ্ছে। একটি প্রভাবশালী মহল এই খাল দখল করে স্থাপনা তৈরি করছেন। ইতোমধ্যে খালটির বিভিন্ন অংশ দখল করা হয়েছে। এই খালের উপর উপজেলা পরিষদ একটি ঘাটলাও নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এটি উদ্ধারে যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তাহলে এই খালটি দ্রুত হারিয়ে যাবে।

প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী তার বক্তব্যে বলেন, আসন্ন ঈদ ও চলমান অতিমারীতে অপরাধ প্রবণতা যাতে বৃদ্ধি না পায় সেদিকে প্রশাসনিক দৃষ্টির পাশাপাশি আমাদের জনপ্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, স্বাধীনতাপদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন্নাহার চৌধুরী, কচুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট হেলাল প্রমুখ। সভায় সংযুক্ত ছিলেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক অসিতবরণ দাস, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মাসুদুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অসীম চন্দ্র বণিক, জেলার বিভিন্ন উপজেলার চেয়ারম্যানগণ, উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যগণ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন