চাঁদপুরের ইতিহাসে এই প্রথম ৩ দিনব্যাপী ঈদুল ফিতর!!!

বিশেষ প্রতিবেদক :
চাঁদপুরে দীর্ঘদিন ধরে দু’দিনব্যাপী উদযাপন হয়ে আসলেও এবার প্রথম বারের মতো টানা ৩ দিনব্যাপী ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে! বুধবার (১২ মে) হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জের কিছু গ্রামে ঈদ উদযাপন করা হয়। তাদের দাবি, সোমালিয়া, নাইজারসহ বিশ্বের কিছু দেশে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে তারা ঈদ উদযাপন করেছেন।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও মতলব উত্তরের আরো কিছু গ্রামে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদ উদযাপিত হয়েছে। মূলত ক’জন পীরের অনুসারী এসব আগাম ঈদ উদযাপন করেছে। পীরদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হওয়ায় তারা এবার ভিন্ন ভিন্ন দিনে ঈদ উদযাপন করেছে। যদিও চাঁদপুর জেলায় আগাম ঈদ পালনকারীর সংখ্যা খুব কম।

এদিকে দেশে চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে সারাদেশের সাথে চাঁদপুরেও শুক্রবার (১৪ মে) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। বৃহস্পতিবার ৩০ রমজান পূর্ণ হয়েছে। মূলত জেলার সর্বত্র শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। সারা জেলার মানুষ শুক্রবার ঈদ উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ঈদ জামায়াতের প্রস্তুতিও ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে আয়োজক কমিটি।

বয়োবৃদ্ধরা জানান, চাঁদপুরের ইতিহাসে এই প্রথম ৩ দিনব্যাপী ঈদুল আযহা উদযাপিত হচ্ছে। ঈদুল আযহাও ৩ দিনব্যাপী পালনের কোনো ঘটনা ইতিপূর্বে চাঁদপুরে ঘটিনি। বিষয়টি নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। আগাম ঈদ পালনকারীর সংখ্যা হাতেগোনা হলেও এতে এক ধরণের বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

হাজীগঞ্জ থেকে আমাদের প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম জয় বলেন, বৃহস্পতিবার হাজীগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার দশটি গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওইসব গ্রামের কিছু মানুষ আগাম ঈদ পালন করে। বৃহস্পতিবার সকালে সাদ্রা মাদ্রাসা ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজের ইমামতি করেন মাওলানা আরিফ চৌধুরী।

ওই সময় তিনি জানান, চাঁদ দেখে তারা প্রতি বছরের ন্যায় এবারও একদিন আগে ঈদ পালন করেছে। তবে যারা দুই দিন আগে ঈদ করেছে তারা ভুল তথ্যের মধ্যে দিয়ে ঈদ পালন করেছে। আর সেই সংখ্যা খুবই কম। তার দেয়া তথ্যমতে, বুধবার হাজীগঞ্জ উপজেলার শমেশপুর ও সাদ্রা এলাকার দু’টি গ্রামে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়।

বুধবার ঈদ পালনকারী সাদ্রার পীর মুফতি আল্লামা যাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী বলেন, ১৯২৮ সার থেকে বিশ্ব মুফতী আল্লামা ইসহাক (রহ.) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত চাঁদপুর জেলার সাদ্রা ঐতিহাসিক দরবার শরীফের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ সর্বপ্রথম নবচঁন্দ্র দর্শনের নির্ভরযোগ্য সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিবছরই ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহাসহ ধর্মীয় সকল উৎসবাদি পালন করে থাকি।

বুধবার (২ দিন আগে) ঈদ উদযাপনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে দরবারের বড় পীরজাদা ড. মুফতি বাকী বিল্লাহ মিসকাত চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার সোমালিয়া, নাইজার ও পাকিস্তানে চাঁদ দেখা গেছে। ওই সংবাদ নির্ভরযোগ্য ভিত্তিতে প্রাপ্ত হয়ে হানাফী মাজহাবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মোতাবেক বুধবার আমরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করছি।

উল্লেখ, ১৯২৮ সাল থেকে সাদ্রা পীর মাওলানা ইসহাক সাহেবের নেতৃত্বে প্রতি বছর সৌদিআরবের সাথে মিল রেখে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে। মাওলানা ইসহাকের উত্তরসূরীরা বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত। তারাই এবার দু’দিনে ঈদ উদযাপন করেছে। এবার একাধিক দিনে আগাম ঈদ পালনে তাদের মধ্যকার বিরোধও ভূমিকা রেখেছে বলে অনেকে মনে করেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।