চাঁদপুরের চরাঞ্চলে ফরহাদ বাহিনীর অস্ত্রের মহড়া : চাঁদাবাজি ও মারধর

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুরের মতলব উত্তরের চরওয়েস্টারসহ চরাঞ্চলবাসীর কাছে আতংকের নাম ফরহাদ। তার ভয়ে রাত-দিন ভয়ে তটস্থ থাকে চরের বেশ কিছু এলাকার মানুষ। প্রকাশ্য দিবালোকে চরে এবং পদ্মা-মেঘনা নদীতে নৌপথে চুরি-ডাকাতিসহ এমন কোনো অপরাধ নাই যে সে করে না। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ চর এলাকার সাধারণ মানুষ। সে চর ওয়েস্টার গ্রামের মৃত কুদ্দুস ছৈয়ালের পুত্র।

স্থানীয়রা জানান, ফরহাদের সঙ্গে থাকা অবৈধ অস্ত্র উঁচিয়ে প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। অসহায় মানুষের কাছে চাঁদা দাবি করে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের মাঝে আতংক সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে রবিউল হাসান নামে একজনকে বেদম প্রহার ও জখম কওে সম্প্রতি। ফরহাদ গংদের বিষয়ে মতলব উত্তর থানায় মামলা গ্রহণ না করায় বুধবার চাঁদপুর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করে বিচার চান আহত রবিউল হাসানের পিতা জসিম উদ্দিন।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, মতলব উত্তর উপজেলার চরওয়েস্টার গ্রামের জসিম উদ্দিন খার পুত্র রবিউল হাসান চরাঞ্চলে ট্রলি গাড়ি ভাড়ায় চালিয়ে মালামাল বহন করে। জসিম উদ্দিন খাঁ নিজ বাড়ির পাশে স্যানেটারী ব্যবসা দিয়া জীবিকা নির্বাহ করে। চরওয়েস্টার গ্রামের মৃত কুদ্দুছ ছৈয়ালের পুত্র ফরহাদ হোসেন স্থানীয়ভাবে একজন সন্ত্রাসের গডফাদার হিসাবে পরিচিত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকেল ৩টার দিকে চরওয়েস্টার গ্রামের ফরহাদ হোসেন, আমজাদ হোসেন, শাহাদাৎ হোসেন, মুক্তার হোসেন, রুপচাঁন, রুবেল, কাওছার, শাহজাহান, মিঠু, জাহাঙ্গীর সশস্ত্র অবস্থায় জসিম উদ্দিনের বাড়িতে এসে তার নিকট বল প্রয়োগপূর্বক তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় মুক্তার হোসেনের নির্দেশে সকলে মিলে জসীম উদ্দিনকে এলোপাথারি কিল-ঘুষি, চর-থাপ্পর মারতে লাগলে আশপাশের লোকজন আসিয়া রক্ষা করে।

এ সময় ফরহাদ হোসেন তার কোমরে থাকা অস্ত্র দিয়ে গুলি করার ভয় দেখিয়ে উপস্থিত সবাইকে মারাত্মক ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে পরবর্তী ২ ঘন্টার মধ্যে তাদের দাবিকৃত তিন লাখ টাকা চাঁদা না দিলে জসিম উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজনকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে বলে হুমকি দেয়।

জসিম উদ্দিন চাঁদার টাকা না দেওয়ায় চরওয়েস্টার গ্রামের অস্ত্রধারী নৌ-ডাকাত ফরহাদ হোসেন, আমজাদ হোসেন, শাহাদাৎ হোসেন, মুক্তার হোসেন, রুপচাঁন, রুবেল, কাওছার, শাহজাহান, মিঠু, জাহাঙ্গীর একত্রে মিলে ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিনের বসতঘর ভেঙ্গে নিতে আসে। জসিমের ছেলে রবিউল হাসান বাধা দিলে ফরহাদ তার হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করে গুলি করার ভয়-ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এরপর হামলাকারীরা জসিম উদ্দিনের বসতঘর ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এ সময় জসিম উদ্দিনের পুত্র রবিউল হাসানকে খুন করার উদ্দেশ্যে মারাত্মক জখম করে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ফরহাদ ও মুক্তারসহ উল্লেখিত নামধারী সবার কাছে অবৈধ অস্ত্র থাকায় এলাকায় কেউ ভয়ে আতংকে থাকে। তারা বাল্কহেড, নৌযান থেকে চাঁদাবাজিসহ নদীতে সকল অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, তাদের অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির শেল্টারদাতা একাধিক মামলার আসামি কাজী মতিন।

অবৈধ অস্ত্র উঁচিয়ে চাঁদাবাজি ও নৌ-পথে ডাকাতি বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে অভিযুক্ত ফরহাদ টেলিফোনে বলেন, আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগটি মিথ্যা। আমি এ ধরণের অপরাধের সাথে জড়িত নই।

অবৈধ অস্ত্রের মহড়া বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, উক্ত ঘটনার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করে নাই, তাই আমার জানা নেই। তবে কেউ অভিযোগ করলে আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করব। থানায় কেউ মামলা করতে আসেনি বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।