চাঁদপুরের সোহেল হত্যায় স্বামী-স্ত্রী আটক : নেপথ্যে পরকীয়া….

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের পূর্ব ষাটনলের দর্জি দোকানদার সোহেল রানা (৩০) হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে নিহত সোহেলের আপন চাচাতো ভাই মাসুদ রানা (৩৩) ও মাসুদের স্ত্রী সুফিয়া (২৫) কে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো পূর্ব ষাটনলের মৃহ হাবীব উল্লাহ পাটোয়ারীর ছেলে মাসুদ রানা (৩৩) ও তার স্ত্রী সুফিয়া আক্তার (২৫)।

সোমবার সকালে পূর্ব ষাটনলের নিজ বাড়ি থেকে তাদের থেকে আটক করা হয়। সোমবার বিকেলের দিকে তাদেরকে চাঁদপুর আদালতে হাজির করার পর জেলখানায় প্রেরণ করা হয়।

জানা যায়, নিহত সোহেলের চাচাতো ভাই মাসুদ রানার স্ত্রী সুফিয়ার সাথে অবৈধ সর্ম্পক ছিল তার। হয়তো এ অবৈধ সর্ম্পকের জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন। এ সম্পর্কটি মেনে নিতে না পেরে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে এমন গুঞ্জন ওই এলাকায়। তবে পুলিশের তরফ থেকে এখনও নিশ্চিত করা হয়নি কিছু। পুলিশ তাদেরকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোবারক হোসেন।

তিনি জানান, পরকীয়ার জের ধরে হত্যাকান্ড হয়েছে কিনা এ বিষয়টি আমরা এখনও নিশ্চিত না। তদন্ত চলছে। আটক আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে। তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদে কিছু পাওয়া গেলে পরে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি বলেন, এ হত্যাকান্ডের রহস্য বের করার জন্য আমরা কাজ করছি।

উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল সকালে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের পূর্ব ষাটনেল খালের পাশ্ববর্তী কবরস্থানের পাশের ধান ক্ষেত থেকে সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওসি মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল ও পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাসুদুর রহমান ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠান। দুর্বৃত্তরা সোহেলকে হত্যা করে চোখ দু’টি উপরে ফেলে। এছাড়া তার শরীকে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই।

এরপর থেকেই মতলব উত্তর থানা পুলিশ এ হত্যাকান্ডের নেপথ্য কারণ, রহস্য বের করার জন্য কাজ করছে। হত্যাকান্ডের পর থেকেই পুলিশ নিহত সোহেলের মাসহ তাদের আত্মীয়দের কথা বলা এবং মোবাইল ফোনালাপের উপর ভিত্তি করে এর সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ওই ঘটনার দু’দিন পরেই এ দুই আসামীকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।