চাঁদপুরের ১৬০০ পরিবার পানিবন্দী : বন্যার আশঙ্কা

তালহা জুবায়ের :
চলতি বর্ষা মৌসুমে পদ্মা-মেঘনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ১৬শ’ পরিবারের ৭ হাজার মানুষ পনিবন্দী হয়ে পড়েছে। তাছাড়া নদীর ঢেউ ও প্রবল স্রোতে জেলার চার উপজেলার ৮ শতাধিক পরিবার হারিয়েছে তাদের বসতভিটা ও ফসলী জমি।

এতে করে চরম দুর্ভোগে সময় কাটছে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চরের এসব মানুষদের। উজানের পানির ঢল আর বর্ষার বৃষ্টিতে বন্যার আসঙ্কা করছে মানুষজন। বন্যার কথা মাথায় রেখে আগে থেকেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন।

নদী ভাঙনরোধে ইতমধ্যে কাজ শুরু করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তকর্তারা। তাছাড়া শুকনো খাবার ও ত্রাণ সহায়তা নিয়ে পানিবন্দী ও ভিটেমাটিহারা এসব মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন প্রশাসন।

গত কয়েকদিন যাবন মেঘনা ও পদ্মা নদীর পানি বিপদ সীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সর্বশেষ গতকাল রবিবার নদীতে ভাটার সময় মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার এবং জোয়ারের সময় ৫৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

রাজরাজেশ^র চরের বাসিন্দা আবুল কালাম, ছলেমান মিয়া বলেন, নদী ভাঙনে ইতমধ্যে অনেক মানুষ ভিটে মাটি হারিয়েছে। আমরা এখন পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।

যেকোন মুহূর্তে আমাদের বসতভিটাও নদীতে হারিয়ে যেতে পারে। আমাদের বসতভিটা রক্ষায় সরকার যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেই সেই অনুরোধ জানাই।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আখতার বলেন, চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ^র, হানারচর, ইব্রাহিমপুর, হাইমচর উপজেলার নীলকমর, হাইমচর, গাজীপুর ইউনিয়নেরর বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছে মানুষ।

তাছাড়া চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধেও ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। চলতি বর্ষায় পদ্মা-মেঘনার ভাঙনের শিকার হয়েছে চাঁদপুরের ৮শ’ পরিবারের সদস্য। আমরা ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

ইতিমধ্যে নীলকমল ও ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে ভাঙনরোধে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তাছাড়া চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধের পুরানবাজার হরিসভা এলাকায় ৯হাজার বস্তা বালি ভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ নদীতে ফেলা হয়েছে। তাছাড়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে আরো ৭হাজার বস্তা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, জেলার চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার নদী তীরবর্তী ২১টি ইউনিয়নের প্রায় ১৬শ’ পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।

এখনো পর্যন্ত পানিআক্রান্ত ও ভাঙনের শিকার মানুুষের মাঝে ৩ হাজার ৪শ’ প্যাকেট শুকনো খাবার, ১শ’ ৬০ মেট্রিক টন চাল এবং ৪ লক্ষাধিক নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের নিকট পর্যাপ্ত চাল ও শুকনো খাবার রয়েছে। ত্রাণের কোন সংকট হবে না। ভিটেহারা মানুষের সহায়তার জন্য টিন চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন