চাঁদপুরে আরো ১৪জনের করোনা শনাক্ত : মৃত আরো ৩জন

জেলায় মোট করোনা রোগী ১১১জন, মোট মৃতের সংখ্যা ১১

রহিম বাদশা :
চাঁদপুরে আরো ১৪জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩জন মারা গেছেন। করোনায় নতুন করে মৃতদের মধ্যে চাঁদপুর জেলা পরিষদ সদস্য খোদেজা রহমানও রয়েছেন। অন্য ২জন কচুয়ায় উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া। আক্রান্ত অন্যদের মধ্যে শহরের এক পরিবারের ৩জন, পুলিশ ও ঔষধ কোম্পানীর কর্মচারী রয়েছেন।

এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১১জন। এর মধ্যে মৃতের সংখ্যা ১১জন। সুস্থ হয়েছেন ২১জন। এর মধ্য দিয়ে চাঁদপুরে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা শত (তিন অংকের কোটা) ছাড়ালো এবং মৃতের সংখ্যা দুই অংকের কোটায় গড়াল। চাঁদপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে শুক্রবার বিকেলে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী নতুন শনাক্তকৃতদের মধ্যে রয়েছেন : চাঁদপুর সদর উপজলার ৮জন (৭ জন শহর এলাকার), ফরিদগঞ্জের ৩জন, কচুয়া ২জন এবং শাহরাস্তির ১জন। এদের মধ্যে চাঁদপুর শহরের ১জন ও কচুয়ার শনাক্তকৃত ২জন উপসর্গ নিয়ে মারা গিয়েছিলেন।

সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ জানান, মূলত নতুন আক্রান্ত ১৩জনের রিপোর্ট শুক্রবার দুপুরে হাতে এসেছে। আরেকজনের রিপোর্ট দ্বিতীয়বার পজেটিভ এসেছে। এছাড়া জেলা পরিষদ সদস্য খোদেজা রহমানের রিপোর্ট পজেটিভ বলে সিভিল সার্জনকে ঢাকা থেকে টেলিফোনে নিশ্চিত করা হয়েছে। ওই রিপোর্ট শুক্রবারের মধ্যেই চলে আসার কথা। তিনি’সহ নতুন আক্রান্ত ১৪জন (নতুন ৩জন মৃত’সহ)

চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজেদা বেগম পলিন শুক্রবার রাতে চাঁদপুর প্রবাহকে জানান, শুক্রবার শনাক্তকৃত ৮জনের মধ্যে চাঁদপুর শহরের লেকেরপাড় (বেবিস্ট্যান্ড) এলাকার এক পরিবারের স্বামী (৬৫), স্ত্রী (৫০) ও মেয়ে (২৩) রয়েছেন। এছাড়া চাঁদপুর পুলিশ লাইনের এক কনস্টেবল (২১), ওয়্যারলেছ এলাকার বাসিন্দা ঔষধ কোম্পানীর এক কর্মচারী (২২), গুয়াখোলা এলাকার এক যুবক (৩৯), লক্ষ্মীপুর এলাকার এক তরুণ (২৫) এবং গুনরাজদী এলাকার বাসিন্দা জেলা পরিষদের মহিলা সদস্য খোদেজা রহমান (৫৮)।

এর মধ্যে খোদেজা রহমান উপসর্গ নিয়ে গত রোববার (১৭ মে) রাতে চাঁদপুর প্রিমিয়ার হাসপাতালে মারা যান। তার করোনা টেস্টের রিপোর্ট পজেটিভ আসলেও কাগজে-কলমে শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত তাকে মৃতদের তালিকায় দেখানো হয়নি। তবে এটি শুধুই সিভিল সার্জন অফিসের অফিস ফরমালিটিজের বিষয় বলে জানা গেছে। যে কোন সময় তাকে মৃতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ডা. পলিন আরো জানান, সারা জেলার ১১১জন করোনা রোগীর মধ্যে ৬২জন’ই চাঁদপুর সদর উপজেলার। শুধুমাত্র চাঁদপুর পৌর এলাকার রোগী সংখ্যা ৫৬জন। যা সারা জেলার মোট রোগীর অর্ধেকেরও বেশি। সদর উপজেলায় এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪জন।

সিভিল সার্জন অফিসে সূত্র আরো জানায়, শুক্রবার জেলার মোট ৪৩জনের নমুনা টেস্টের রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে ১৪জন পজেটিভ। আর বাকী ২৯জনের রিপোর্ট করোনা নেগেটিভ। চাঁদপুরে জেলায় বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত ১১১জনের উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান হলো : চাঁদপুর সদরে ৬২, ফরিদগঞ্জে ১৪, মতলব উত্তরে ৬, হাজীগঞ্জে ৬, মতলব দক্ষিণ ৬, কচুয়ায় ৭, শাহরাস্তিতে ৮ ও হাইমচরে ২জন।

সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ শুক্রবার বিকেলে এক প্রেস নোটে জানান, চাঁদপুর থেকে আরো ১৬জনের নমুুনা প্রেরণ করা হয়েছে করোনা টেস্টের জন্য। এ নিয়ে মোট প্রেরণকৃত নমুনার সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩৫৮। এর বিপরীতে রিপোর্ট এসেছে ১১২৯টি। রিপোর্ট অপেক্ষমান ২২৯টি।

তিনি জানান, চাঁদপুর জেলায় এখন পর্যন্ত আইসোলেশনে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৬২জন। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৪জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রোগীর সংখ্যা ৮জন। জেলায় মোট হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তির সংখ্যা ৩৬৬৩জন। এর মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৬১৮জন। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৫জন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন