চাঁদপুরে একটি ফ্যান ও একটি লাইটের মাসিক বিল ৭৮৬৭৯ টাকা!

টিপু পাঠান :
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-০২ ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতাধীন পল্লী বিদ্যুতের এক গ্রাহকের ব্যবহৃত মিটারে ১২০ টাকার বিপরীতে একমাসে ৭৮হাজার ৬শ’ ৭৯ টাকা এসেছে। ভুতুরে এই বিলে দিশেহারা ঐ পরিবারটি। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের গোজামিলে আরো অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবারটি। সচেতন নাগরিকের প্রশ্ন এই দায়ভার কার? গ্রাহক ও স্থানীয়দের অভিযোগ ওই মিটারটিতে মাত্র একটি এনার্জি লাইট ও একটি ফ্যান ব্যবহার হয়।

কোন রকম যৌক্তিক কারন ছাড়াই জোনাল অফিসের ডিজিএম গোজা মিল দিয়ে নিরীহ গ্রাহককে এই নিয়ম বহির্ভূত বিল দিতে বাধ্য করছে। ভুতুরে বিলের শিকার রুমা আক্তার বিদ্যুৎ অফিসে সংলিষ্ট কর্মকর্তাদের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি বিদ্যুতের এ মিটারটি অনেক কষ্টে নামিয়েছি। আমার স্বামী একজন শ্রমিক। আমরা কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে জীবনে বেচে আছি। প্রতি মাসে আমগো বিল আসতো একশ টাকা থেকে দেড়শ’ টাকা।

কিন্তু কেন মার্চ ২০২১ মাসে এতো টাকা বিল আসছে তা আমার জানা নেই। পল্লী বিদ্যুতের স্যারেরা আমার সাথে যে ব্যবহার কইচ্ছে আমরা গরীব তাতে কি হইছে, আমরাও তো মানুষ। হেতারা আমগোরে বিল দিতাম কই অফিসেত্বে নামাই দিছে। আমরা একটা বাতি আর ফ্যান ছাড়া কোন কিছু চালাই না। আন্নেরাতো দেখছেন এছাড়াও আমাদের ঘরে আর কোন কিছু নাই। কিল্লাই বিল দিতাম? সরকারের কাছে বিচার চাই।

ভুতুড়ে বিলের ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলা ১৬নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ গ্রামের বেপারী বাড়িতে গৃহবধূ রুমা আক্তারের ব্যবহৃত পল্লী বিদ্যুৎ (হিসেব নং ০৩-৫৩৬-১১৭৮) নং মিটার টিতে।

সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগী গ্রাহক গ্রাহক রুমা আক্তার জানান, গত ৫ বছর ওই মিটারটি ব্যবহার করে আসছেন, তিনি মিটারটিতে একটি ফ্যান ও একটি বাতি ও মোবাইল চার্জার ব্যবহার করে আসছেন। প্রতি মাসে ১শ’ টাকা, ১শ’ বিশ বা ১শ’ ৫০ টাকার মধ্যে বিলের সিমাবদ্ধতা ছিলো। বিদ্যুতের পূর্বের বিলের কপি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে রূমা আক্তার নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ করে চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি মোবাইলের মাধ্যমে জানতে পারেন মার্চ মাসে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৭৮,৬৮৯ টাকা। এমন তথ্য পেয়ে তিনি ছুটে যান ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসে, সেখানে গিয়ে কোন সমাধান মিলেনি বরং কর্তৃপক্ষের ব্যবহারে নাখোশ হয়েছেন বলে জানিয়েছে রুমা বেগম।

এদিকে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে রুমা আক্তারের ব্যবহৃত মিটারটিতে একটি ফ্যান ও একটি বাতি ছাড়া কোন মোটর বা অন্য কিছু ব্যবহার কিং বা সর্ট সার্কিট এর কোন আলামত পাওয়া যায়নি। পল্লী বিদ্যুৎ কতৃপক্ষের দায়িত্বশিল কোন কর্মকর্তা ঘটনার স্থান পরিদর্শনে না গিয়ে দাবী করেছেন মিটারটিতে সর্ট সার্কিট হয়েছে। তাই এমন বিল এসেছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-০২ এর ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসে কর্মরত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মুহাম্মদ নূরল হোসাইনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলে তো আর বিল আসে না, আমি খোঁজ নিয়েছি ওই খানে সর্ট সার্কিট হয়েছে। আমি বলে দিয়েছি গ্রাহককে বিল গুলো দিয়ে দেওয়ার জন্যে। সর্ট সাকির্ট হয়ে শুধু বিদ্যুৎ বিল এসেছে, কোনো অগ্নীকান্ড, মেইন সুইচ কিংবা মিটারের কোন ক্ষতি হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এবিষয়ে আমি আর কথা বলতে চাই না আপনারা ইউএনও মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করেন, ইউএনও স্যার বিষয়টি জানেন এ বলে তিনি আর কথা বলেন নি।

এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরির সাথে কথা হলে তিনি জানান, এমন কোন ঘটনা আমার জানা নেই। তিনি ডিজিএমকে গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে চাইলে ডিজিএম গ্রহণ যোগ্য কোন উত্তর দিতে পারেননি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।