চাঁদপুরে করোনার টিকার মজুদ ফুরিয়ে আসছে

রহিম বাদশা :
চাঁদপুর জেলায় করোনার টিকার মজুদ ফুরিয়ে আসছে। বুধবার (১১ আগস্ট) দিনশেষে চাঁদপুরে ৮ হাজার ৬৯৫ ডোজ টিকা অবশিষ্ট (মজুদ) ছিল। এর মধ্যে অ্যাস্টেজেনেকার ৪ হাজার ৭৯২ ডোজ ও সিনোফার্মের ৩ হাজার ৯০৩ ডোজ। এসব টিকা দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে প্রদান করা হবে মজুদ থাকা পর্যন্ত। এরপর নতুন করে টিকা আসতে দেরী হলে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

টিকা সংকটের কারণে বুধবার (১১ আগস্ট) থেকে চাঁদপুর জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য করোনার টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। এ নিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে টিকার অপেক্ষায় থাকা লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তবে সিভিল সার্জন আশা করছেন, শুক্র/শনিবারের মধ্যে নতুন টিকা আসতে পারে। টিকা আসলেও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে শুক্রবার ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রোববার টিকাদান বন্ধ থাকবে বলে জানান তিনি।

সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ জানান, চাঁদপুর জেলায় এখন পর্যন্ত (৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ আগস্ট) ২ লাখ ৬৩ হাজার ৯০৫জন করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ের প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ৬০ হাজার ৩৯০জন ও দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন ৫২ হাজার ৪১৮জন। দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৯৭জন ও দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন ২২০০জন।

তিনি জানান, ১১ আগস্ট একদিনে সারা জেলায় করোনার টিকা নিয়েছেন ২ হাজার ৮৫২জন। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ের দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে ১ হাজার ৬০০জন, দ্বিতীয় পর্যায়ের ডোজ হিসেবে ১২৫২জন টিকা নিয়েছেন।

সিভিল সার্জন আরো জানান, চাঁদপুর জেলায় এ পর্যন্ত করোনার টিকার জন্য মোট ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৩জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৭৭ হাজার ৫৮জন ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৫জন রেজিস্ট্রেশন করেন। এ পর্যন্ত প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন ২ লাখ ৯ হাজার ২৮৭জন। তাদের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৫৪ হাজার ৬১৮জন।

ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ জানান, চাঁদপুর জেলায় এ পর্যন্ত করোনার টিকা এসেছে ২ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ। এর মধ্যে অ্যাস্টেজেনেকার ১ লাখ ২৮ হাজার ডোজ ও সিনোফার্মের ১ লাখ ৫৫ হাজার ডোজ। ১১ আগস্ট পর্যন্ত টিকা দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার ৯০৫জনকে। বর্তমানে ৮ হাজার ৬৯৫ ডোজ টিকা অবশিষ্ট আছে। এর মধ্যে অ্যাস্টেজেনেকার ৪ হাজার ৭৯২ ডোজ ও সিনোফার্মের ৩ হাজার ৯০৩ ডোজ। অ্যাস্টেজেনেকার ৮ হাজার ৪০০ ডোজ পূর্বে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত অপচয় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ডোজ। অপচয়ের শতকরা হার ১.৫৬ ভাগ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন