চাঁদপুরে করোনার টিকা প্রদান শুরু : জেলার ২৫ কেন্দ্রে চলবে ২ সপ্তাহ

কবির হোসেন মিজি :
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের টিকা গ্রহণের মধ্য দিয়ে চাঁদপুরে করোনার টিকা প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় সিভিল সার্জন অফিস চত্বরে উদ্বোধনী দিনে ১৫৪জন টিকা গ্রহণ করেন। ঢাকা থেকে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

প্রথম দিনে আরো টিকা নিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখওয়াত উল্যাহ, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, পৌর মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমানসহ সরকারি জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসক ও নার্সরা।

এছাড়া টিকা গ্রহণ করেন ২৫০ শয্যার চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের করোনা বিষয়ক ফোকালপার্সন ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) সোহেল মাহমুদ, পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী মাসুম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনির আহমেদ, চাঁদপুরের বিশিষ্ট সমাজসেবক মো.সহিদ উল্লাহ, ২৫০ শয্যার চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের নার্স ফেরদৌসী জাহান লাভলীসহ মোট ১৫৪জন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু, প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. মোা. ইলিয়াছ, জেলা বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মাহমুদুন্নবী মাসুম, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বেপারী, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজেদা বেগম পলিনসহ চিকিৎসক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, আমি ছোট বেলা থেকে অনেক টিকা নিয়েছি। এই টিকা একটু ব্যতিক্রম লেগেছে। আমার একটুও খারাপ লাগেনি। স্বাভাবিক টিকা নিলে যেমন অনুভুতি হয়, তেমনি লেগেছে। ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। আপনারা নিবেন এবং আমার জন্য দোয়া করবেন।

সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, আজকে চাঁদপুর সদরসহ জেলার ৮ উপজেলায় একযোগে করোনার টিকা দেয়া হচ্ছে। আমাদের প্রশিক্ষিত নার্সরা এই টিকা দিচ্ছেন। এটি চলমান থাকবে। জেলার ২৬ লাখ জনগণের বিপরীতে প্রথম দফায় করোনা টিকা এসেছে ৭২ হাজার ডোজ। তিনি জানান, শুক্র ও শনিবার বাদে টানা ২ সপ্তাহ ধরে জেলার ২৫টি কেন্দ্রে করোনার টিকা দেওয়া হবে।

তিনি জানান, নিবন্ধিত মানুষজন করোনার টিকা পাবেন। আগ্রহী লোকজন টিকাদান কেন্দ্রে এসে রেজিস্ট্রেশন করে তাৎক্ষণিক টিকা দেওয়ারও সুযোগ পাবেন। তিনি জানান, টিকা গ্রহণের পর তিনি সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। সবাইকে টিকা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।