চাঁদপুরে করোনার দ্বিতীয় ধাপের শঙ্কা : ২ দিনে শনাক্ত ২৯ : শীঘ্রই আইসিইউ

রহিম বাদশা :
চাঁদপুরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাপ শুরুর আশঙ্কা করছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। মাসাধিকাল রোগী শনাক্তের হার অনেক কম থাকার পর গত কয়েক দিনে আবার রোগী বেড়েছে। বিশেষ করে গত দুই দিনে (রোববার ও সোমবার) ২৯জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ায় শঙ্কিত স্বাস্থ্য বিভাগ। বাড়ছে নমুনা প্রদানকারী ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও।

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ সোমবার চাঁদপুর প্রবাহকে বলেন, সারাদেশের সাথে চাঁদপুরেও গত ২ দিনে করোনা রোগী হঠাৎ বেড়ে গেছে। তাছাড়া সামনে শীত মৌসুম। সব মিলিয়ে আগামী দিনগুলোতে আক্রান্তের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাপ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চাঁদপুর জেলাও এই আশঙ্কার বাইরে নন। তবে দ্বিতীয় ধাপের সম্ভাব্য সংক্রমণ রোধে ও করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা ব্যাপক উদ্যোগ ও প্রস্তুতি নিয়েছি।

তিনি জানান, চাঁদপুরে আরটি-পিসিআর ল্যাব থাকায় নমুনা পরীক্ষা করে আক্রান্তদের দ্রুততম সময়ে শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা ও আইসোলেশনের আওতায় আনা এখন সহজেই সম্ভব। হোম আইসোলেশনের বিষয়টি আবারও কঠোর করা হচ্ছে। চাঁদপুর সদর হাসপাতালের হাই ফ্লো অক্সিজেন প্লান্ট শ্বাসকষ্ট ও অক্সিজেন সংকটে ভোড়া রোগীদের চিকিৎসা সহজ করেছে।

এর পাশাপাশি শঙ্কটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসায় চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ৫ শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন। তিনি বলেন, খুব সহসা চাঁদপুরে সরকারিভাবে আইসিইউ চালু হবে বলে আশা করছি। পরবর্তীতে এর বেড সংখ্যাও বাড়বে। আর সবার মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে আবারো কঠোর অবস্থান নিবে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত দু’দিনে শনাক্তকৃত ২৯জনের মধ্যে ২১জন চাঁদপুর সদর উপজেলার। এর মধ্যে ১৮জন’ই চাঁদপুর পৌর এলাকার। অর্থাৎ পূর্বের মতো এবারো চাঁদপুর শহর ও সদর উপজেলায় আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। তবে করোনার উপসর্গ নিয়ে অনেকেই তা গোপন রাখছেন এবং নমুনা প্রদান থেকে বিরত থাকছেন। সদর বাদে অন্যান্য উপজেলায় এই প্রবণতা বেশি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র আরো জানায়, সোমবার (২ নভেম্বর) জেলায় করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৩জন। এর মধ্যে চাঁদপুর সদরের ১১জন, হাজীগঞ্জের ১জন ও হাইমচরের ১জন। একই দিনে করোনা থেকে মুক্ত তথা সুস্থ ঘোষণা করা হয়েছে ৭জনকে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদরের ৩জন, শাহরাস্তির ৩জন ও কচুয়ার ১জন।

চাঁদপুর সদর উপজেলায় নতুন আক্রান্ত যারা : শহরের ওয়ারলেস বাজার এলাকার পুরুষ (৫৫), ষোলঘর এলাকাকর পুরুষ (৩৭), পুরানবাজার নবাবল্লীর মহিলা (৫২), পূর্ব শ্রীরামদীর পুরুষ (৬৫), প্রফেসরপাড়ার মহিলা (৪৫), মহিলা (১৮), পুরুষ (২২), মহিলা (৩৫), পুরানবাজারের পুরুষ (৬৫), চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর এলাকার পুরুষ (৪৫) এবং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে বহরিয়া এলাকার মহিলা (১৭)।

এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৪১৫জন। এর মধ্যে মৃতের সংখ্যা ৭৮জন। সুস্থ হয়েছেন ২২৪৮জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ৯০জন। সোমবার (২ নভেম্বর) চাঁদপুরস্থ ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ আরটি-পিসিআর ল্যাব থেকে মোট ৭৬টি রিপোর্ট আসে। এর মধ্যে করোনা পজেটিভ ১৩টি। বাকী ৬৩টি রিপোর্ট করোনা নেগেটিভ।

চাঁদপুর জেলায় বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত ২৪১৫জনের উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান হলো : চাঁদপুর সদরে ৯৯০জন, ফরিদগঞ্জে ২৭৩জন, মতলব দক্ষিণে ২৬৭জন, শাহরাস্তিতে ২৩৩জন, হাজীগঞ্জে ২০৬জন, মতলব উত্তরে ২০০জন, হাইমচরে ১৬১জন ও কচুয়ায় ৮৫জন।

করোনায় জেলায় মোট ৭৮জন মৃতের উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান হলো : চাঁদপুর সদরে ২৩জন, হাজীগঞ্জে ১৭জন, ফরিদগঞ্জে ১১জন, মতলব উত্তরের ১০জন, শাহরাস্তিতে ৭জন, কচুয়ায় ৬জন, মতলব দক্ষিণে ৩জন ও হাইমচরে ১জন।

চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজেদা বেগম পলিন সোমবার চাঁদপুর প্রবাহকে বলেন, হঠাৎ রোগী বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। শীতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। সে কারণে আক্রান্তের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। তবে দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে কিনা তা এখনি বলা যাচ্ছে না। আরো কিছু দিন পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল (সদর) হাসপাতালের আরএমও ও করোনা বিষয়ক ফোকালপার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল সোমবার চাঁদপুর প্রবাহকে বলেন, আমরা সম্ভবত করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাপের দিকে এগুচ্ছি। গত ২ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। সামনে শীত। তখন সংক্রমণ ও আক্রান্ত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন