চাঁদপুরে তরমুজের দাম আকাশচুম্বী : পিস কিনে কেজি ধরে বিক্রি

কবির হোসেন মিজি :
চাঁদপুরে তরমুজের দাম হঠাৎ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। কেজি ধরে বিক্রি করা হচ্ছে এই মৌসুমী ফল। ফলে তরমুজ কেনা নিম্নবিত্তের মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। যদিও ব্যবসায়ীদের অজুহাত হিসেবে বলছেন, তরমুজের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অন্যান্য বছরগুলোর তুলনায় এবছর তরমুজের তেমন আমদানি-রপ্তানি নেই। মাঝে মাঝে কিছু তরমুজ আমদানী হলেও তা বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। বাস্তবে এবার বাজারে তরমুজের ব্যাপক আমদানী হয়েছে।

বর্তমানে পবিত্র রমজান মাস হওয়ায় রোজাদার ব্যক্তিরা সব সময় ইফতারিতে পানীয় ও রসালো ফল দিয়ে ইফতার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আর এই রমজানকে পুঁজি করেই বাজারে কিছু অসাধু খুচরা তরমুজ বিক্রেতারা ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা দরে তরমুজ বিক্রি করে চলেছে। প্রশাসন এবং কর্তৃপক্ষের বাজার মনিটরিং না থাকায় পুরো রমজানের শুরু থেকে এসব ব্যবসায়ীরা চড়া দামে তরমুজ বিক্রি করে আসছে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজের তেমন আমদানী-রপ্তানী হয়নি। গত বছরগুলোতে চাঁদপুরে পানীয় ফল তরমুজ বাঙ্গি সহ ফলের ব্যাপক আমদানি রপ্তানি হলেও এবছর তার অর্ধেকও আমদানি রপ্তানি হয়নি। তাই পাইকারি ব্যবসায়ীরা অধিক দামে তরমুজ ক্রয় করার কারনে অধিক দামেই তা রপ্তানি করতে হচ্ছে। কিন্তু পাইকারি ব্যবসায়ীরা পিস হিসাবে তরমুজ বিক্রি করলেও কিছু অসাধু খুচরা ব্যবসায়ীরা রমজানকে পুঁজি করে অধিক লাভের জন্য বাজারে এবং ফুটপাতে ৭০/৮০ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করছেন।

গত কয়েকদিন ধরে চাঁদপুর শহরের ১০ নং চৌধুরী ঘাটস্থ ফলের আরত গুলোতে ঘুরে দেখা গেছে। যেখানে আগের সৃজনে সবকটি আরতেই তরমুজের ব্যাপক আমদানি এবং রপ্তানি হতো। সেখানে বর্তমানে হাতে গোনা মাত্র দু-তিনটি আড়তে তরমুজের আমদানি-রপ্তানি হতে দেখা যায়।

ফলের আড়ত হাজী ট্রেডার্সের প্রোঃ মাসুদ বেপারীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আগে অনেক কৃষকরাই তরমুজের চাষ করতো। বিশেষ করে খুলনা-মংলা বারজা এলাকা নামে তরমুজের বেশি চাষ হয়ে থাকে। এবার ভোলার তরমুজ শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে খুলনা থেকে তরমুজ আমদানী করা হচ্ছে। তিনি জানান এ বছর মেঘ-বৃষ্টি না থাকায় তরমুজ সাইজে অনেকটা ছোট। কিন্তু খেতে অনেক সুস্বাদু ও মিষ্টি।

এ বছর তরমুজের দাম নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, যেখানে অন্যান্য সৃজন ১,শ পিস তরমুজ ১২ হাজার টাকায় ক্রয় করা হতো। সেখানে বর্তমানে তা ক্রয় করতে হচ্ছে ২৪/২৫ হাজার টাকা দরে। নদীপথে, ট্রাকে এবং ফেরিতে যাতায়াত খরচ বেশি হওয়ায় এবং চাষ কম হওয়ার কারনে অন্যান্য বছরের তুলানায় এ বছর তরমুজের দাম অনেক বেশি।

এদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা আড়ত গুলো থেকে পিস হিসেবে তরমুজ ক্রয় করলেও তারা রমজানকে পুঁজি করে তা বাইরে খোলাবাজারে বিক্রি করছেন ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। সচেতন মহল মনে করছেন রমজান মাসে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং তদারকি না থাকায় এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদেরকে জিম্মি করে চড়া দামে ফল বিক্রি করে চলেছেন। এখন থেকে যদি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাজার মনিটরিং করেন তাহলে হয়তো এসব অসাধু খুচরা ব্যবসায়ীরা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করার সুযোগ পাবেনা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।