চাঁদপুর থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে কর্মস্থলে ফিরেছেন মানুষ : ভাড়া কয়েকগুণ বেশি!

শরীফুল ইসলাম :
ঈদের ছুটি শেষে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে সারাদেশে গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। ফলে অনেক মানুষ লঞ্চ, ট্রেন ও বাসের বিকল্প হিসেবে অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস ও ট্রাক বেছে নিয়েছেন। ঈদের পরদিন থেকে চাঁদপুর পৌর পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২০-২৫টি অ্যাম্বুলেন্স যাত্রী নিয়ে রাজধানীর উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে ১০ থেকে ১২জন করে গাদাগাদি করে নিয়ে যাচ্ছেন চালকরা।

এদিকে কাজের প্রয়োজনে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করতে না পেরে তাদের গুনতে হচ্ছে তিন থেকে চার গুণ অতিরিক্ত ভাড়া। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষকে। সরেজমিনে চাঁদপুর বড়স্টেশন ঘাটে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। যাত্রীর চাপে চাঁদপুর শহরের তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। করোনার ঝুঁকি নিয়েই গাদাগাদি করে নদী পার হয়ে গন্তব্যে ছুটে যাচ্ছে যাত্রীরা।

চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডে বাসের অপেক্ষায় থাকা ঢাকার যাত্রী হাফিজুল বলেন, আমি ঢাকায় একটি কারখানায় কাজ করি। সকালে বের হয়ে শরীয়তপুর থেকে ট্রলারে করে খুব কষ্টে বাসস্ট্যান্ডে এসেছি। কিন্তু এখানে এসে দেখি ঢাকায় যাওয়ার কোনো পরিবহন নেই। তাই অ্যাম্বুলেন্সে করে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। ভাড়া তিন গুণ তবু কর্মস্থলে যেতে হবে।

অ্যাম্বুলেন্সচালক মনির হোসেন বলেন, সরকার যেভাবে লকডাউন দিয়েছে, সবাইকে না খেয়ে মরতে হবে। মানুষ ঢাকায় অ্যাম্বুলেন্সে যেতে আগ্রহী, তাই নিয়ে যাচ্ছি। রোগীর অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রী নেওয়া কি ঠিক, এমন প্রশ্নের জবাবে মনির বলেন, ভাই, এত নিয়মকানুন বুঝি না। যাত্রী নিলে টাকা পাব। ইনকাম না থাকলে পরিবার চালামু কেমনে?

চাঁদপুর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) মো. জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, অ্যাম্বুলেন্সে করে যাত্রী নেওয়ার কোনো নির্দেশনা নেই। যারা এ কাজটি করছে, সম্পূর্ণ বেআইনি। ঈদের কারণে আমাদের লোকবল-সংকট। আশা করি সামনে থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্সেও যাত্রী নিতে দেওয়া হবে না।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।