চাঁদপুর নৌ-বন্দরের উন্নয়ন করা হবে : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য বালু দরকার কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে কোন বালি উত্তোলন নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই নির্দেশনা দিয়েছেন প্রতিবছর এক জায়গায় বালু মহাল হবে না। সেখানে নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। তা না হলে সেখানে ফোর্স এপ্লাই করা হবে। এ ব্যাপারে কারো কথা শুনা হবে না, সে যেই রাজনৈতিক দলের হউক, যতই ক্ষমতাবান হউক। কোন অবস্থায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না।

তিনি শনিবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রশাসনতন্ত্র চলবে দেশ মাতৃকার জন্য, কোন ব্যক্তির জন্য কাজ করবে না এখানে। সকলকে দেশের আইনকানুন মেনে চলতে হবে।

নদী দূষণরোধে মন্ত্রী বলেন, ঢাকার বুড়িগঙ্গা, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা যেখানেই যাবেন দেখবেন দূষণ। মুক্ত বাতাস থেকে যাত্রা শুরু করে সদরঘাটে গেলে মন খারাপ হয়ে যায়। আমরা কাজ করছি। আমাদের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করা। সেজন্য আমরা বিশেষায়িত ড্রেজার সংগ্রহ করছি। আমরা আশা করি বিশেষায়িত ড্রেজারগুলো আমাদের সংগ্রহে চলে আসলেই নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে সমর্থ হবো।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর এজেডএম জালাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক, জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল। এর আগে গত ১৯ মে থেকে সপ্তাহব্যাপী ত্রয়োদশ নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ উদযাপন শুরু হয়।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা নৌবন্দরগুলো আধুনিক করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। চাঁদপুর, নারায়নগঞ্জ, বরিশাল ও ভোলায় বন্দর উন্নয়ন কাজ করা হবে। ইতোমধ্যে বরিশাল ও পটুয়াখালিসহ বেশ কিছু বন্দরের কাজ আপডেট করেছি। আপনারা এখন চাঁদপুর থেকে সদরঘাট গিয়ে নামলে আগের চাইতে অনেক সুন্দর পরিবেশ পাচ্ছেন। আগে বলা হত ‘উপর দিয়ে পিটপাট ভিতরে সদরঘাট’ এখন তার বিপরীত সদরঘাট হচ্ছে পিটপাট।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নানা কারণে চাঁদপুর নৌ-বন্দর অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আজকে অনুষ্ঠানে যারা বক্তব্য দিয়েছেন তারা অনেকেই চাঁদপুরের পূর্বের এবং বর্তমান নৌ-বন্দরের ঐতিহ্য তুলে ধরেছেন। এখানে রেলপথ, সড়কপথসহ সার্বিক সুবিধা আছে। আপনাদের দাবি এখন একটি আধুনিক নৌ-বন্দর করার জন্য। ইতোমধ্যে এই কাজ অনেক এগিয়েছে। আমরা চাঁদপুরে একটি আন্তর্জাতিক নৌ-বন্দর নির্মাণ করব।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।