চাঁদপুর লঞ্চঘাটে সামাজিক দূরত্ব উধাও! বন্দর কর্মকর্তা পাল্টালেও দৃশ্য অপরিবর্তিত

তালহা জুবায়ের :
বেলা বাড়ার সাথে সাথে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে। সোমবার সকালে লঞ্চঘাটে যাত্রীদের মাঝে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা গেলেও বেলা বাড়ার পরে তা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে যাত্রী সংখ্যা ঘুচেছে সামাজিক দূরত্ব।

এতে করে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি মাথায় রেখেই গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন যাত্রীরা। চাঁদপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা চাঁদপুর লঞ্চঘাট ব্যবহার করে রাজধানী ঢাকায় যাত্রা করায় ভিড় বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ।

সরেজমিন দেখা যায়, সকাল ৬টায় চাঁদপুর ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি রফ রফ, সকাল ৭টায় এমভি সোনার তরী ও ৮টা ছেড়ে যায় এমভি ঈগল।

এ সকল লঞ্চগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহন করতে সমর্থ হয় পুলিশ বিভাগ, প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষ।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পরিমিত যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো ঢাকার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর ঘাট থেকে ছেড়ে যায়। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। বেলা ১১টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া এমভি রফ রফ-৭ নামের যাত্রীবাহী লঞ্চে ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়।

হাজার হাজার যাত্রীর উপস্থিতিতে হকচকিয়ে যায় কর্তৃপক্ষ। কোনোভাবেই যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। সকালে যাত্রী নিরাপত্তায় জীবাণুনাশক স্প্রে প্রদান করা হলেও, পরবর্তীতে ঘাটে যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় করোনাভাইরাস রোধে কোনো ধরনের জীবাণুনাশক ঔষধ স্প্রে বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।

ঘাটে দায়িত্ব পালনকারী নবনিযুক্ত বিআইডব্লিউটি- চাঁদপুর এর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা আবুল বাশার মজুমদার বলেন, যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। লোকজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে লঞ্চে উঠছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু ঘাটে প্রচুর পরিমাণে যাত্রী থাকায় আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাদেরকে কোনো অবস্থাতেই কথা শুনানো যায়নি।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ঢাকাগামী যাত্রী মো. হানিফ, লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে আসা যাত্রী আব্দুল বারেক বলেন, দীর্ঘদিন পর অফিস খোলা হয়েছে, আমাদের কাজে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় যেতে হচ্ছে। ঘাটে প্রচুর ভিড় থাকা সত্ত্বেও ভিড় ঠেলেই লঞ্চ উঠতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

রায়পুর থেকে আসা শেফালী আক্রার নামের এক পোশাক শ্রমিক বলেন, কপালে যা আছে তাই হবে। করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি আছে জানি। কিন্তু কি করবো, পেটের খিদা মেটাতে হলে কাজেতো যাওয়াই লাগবে।

চাঁদপুর লঞ্চঘাটের ঘাট সুপারভাইজার আলী আজগর বলেন, আমরা নিয়ম মেনে যাত্রীদের লঞ্চে উঠাচ্ছি। কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না। অনেক সময় যাত্রীদের চাপ বেড়ে গেলে অনেক সময় যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না।

চাঁদপুর নৌ-থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি অনেকটা খারাপ হয়ে যায়। তবুও আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীদের পরিবহনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, গতকাল থেকে সাধারণ ছুটি বন্ধ ঘোষণার পর থেকে ঢাকাসহ সারা দেশের সাথে চাঁদপুরের লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। এসময় দায়িত্বে অবহেলার কারনে চাঁদপুর জেলা বন্দর কর্মকর্তা আ. রাজ্জাককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়।

চাঁদপুর থেকে দেশের অন্তত ২০টি রুটে অর্ধশত যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করে থাকে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন