চাঁদপুর শহরে ইস্টার্ন লাইব্রেরী, চাঁদপুর প্রেস ও সাগরিকা কনফেকশনারী দখল!

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুর শহরে কালীবাড়ি মোড় সংলগ্ন জেএম সেনগুপ্ত রোডের ইস্টার্ন লাইব্রেরী, চাঁদপুর প্রেস ও সাগরিকা কনফেকশনারী দখলের উদ্দেশ্যে রাতের অন্ধকারে বেআইনিভাবে বেড়া নির্মাণ করেছে প্রতিপক্ষ।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সেই জায়গা দখলের জন্য টিনের বেড়া দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে লীজ গ্রহীতা মনির আহমেদ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাঁদপুর সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসক, এডিসি রেভিনিউ, সদর এসি ল্যান্ডকে অবগত করেছেন বলে জানান।

মনির আহমেদ জানান, ১৯৪৮ সাল থেকে লাইব্রেরী ও প্রেসের ব্যবসা করে আসছেন। এ বিষয়ে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ ট্রাইব্যুনালে ৪২৪/১২ মামলা চলমান থাকা অবস্থায় কেউ ওই সম্পত্তি দখল করতে পারে না। ওই সম্পত্তি ‘ক’ তফসিলভুক্ত হওয়ায় সম্পূর্ণভাবে জেলা প্রশাসকের আওতাধীন। রাতের অন্ধকারে জোর করে এই সম্পত্তি দখল করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

তিনি আরো জানান, ৮, জেএম সেনগুপ্ত রোড ইস্টার্ন লাইব্রেরী, চাঁদপুর প্রেস, সাগরিকা কনফেকশনারী ৭.৩১ শতাংশ জায়গা স্থাপনার মধ্য মনির আহমেদের দখলে ২.৫৮ শতাংশ জায়গা। সাগরিকার. ৫৮ শতাংশ। জেলা প্রশাসকের লীজ প্রাপ্ত। আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত আগেই জোরপূর্বক দখল করা হচ্ছে। এই সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি ‘ক’ তফসিলের জায়গা এবং গেজেটভুক্ত। তারা যদি হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের রায় পেয়ে থাকে তাহলে কোর্টের মাধ্যমে সেই জায়গা ডিসি সাহেব দখল বুঝিয়ে দেবে। এই মর্মে আদালতে চলমান মামলার সিদ্ধান্ত নত মস্তকে মানতে বাধ্য থাকা অঙ্গীকারনামা রয়েছে। তার আগে সেই সম্পত্তি দখল করতে গেল কেন? বেআইনিভবে গায়ের জোরে গুলশান আরা বেগম গং ও রাজু বেপারী জোরপূর্বক সেই জায়গা দখলের জন্য টিনের বেড়া নির্মাণ করেছে।

সাগরিকা স্টোরের স্বত্তাধিকারী মো. মোরশেদ আলম খান জানান, পাকিস্তান আমলে ছিল আমজাদীয় লাইব্রেরী। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত লাইব্রেরী ব্যবসা পরিচালনা করা হয়। পরে ব্যবসার ধরণ পরিবর্তন করে সাগরিকা স্টোর করা হয়। রাত ১০টার দোকান বন্ধ করার পর রাতের আধারে কি করে দখল করে। দোকানে আমাদের লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল ও নগদ টাক ছিল।

গুলশান আরা বেগমের স্বামী রাজু বেপারী জানান, ক্রয় সূত্রে আমার স্ত্রী গুলশান আরা বেগম এসম্পত্তির মালিক। একটি চক্র এ সম্পত্তিটিকে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে গেজেট করেছিল। এ ব্যাপারে মহামন্য হাইকোর্টে মামলা করলে হাইকোর্ট অর্পিত সম্পত্তি নয় বলে আমাদের পক্ষে রায় প্রদান করে। ঐচক্র এরায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে, মহামান্য হাইকোর্ট সুপ্রিমকোর্টের রায়কে বহাল রাখে। এখন এ সস্পত্তি অর্পিত সস্পত্তি নয়। আমি রাতের আধারে নয়, দিনের আলোতে আমার জায়গায় ভবন করার উদ্দেশ্যে বেড়া দিয়েছি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন