চাঁদপুর শহর রক্ষায় নদীতে ড্রেজিংসহ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঐতিহাসিক বাণিজ্য বন্দর চাঁদপুর শহর রক্ষায় প্রয়োজনীয় ড্রেজিংসহ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন নদীভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির দক্ষিণাঞ্চল শাখার নেতৃবৃন্দ। ক’দিন পরপর থোক বরাদ্দ আর বালু ভর্তি জিইও টেক্সটাইল ব্যাগ নদীতে ফেলে প্রমত্তা মেঘনার ভাঙনরোধ করা যাবে না বলেও নেতৃবৃন্দ অভিমত ব্যক্ত করেন।

গত রোববার চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার ১নং ওয়ার্ডস্থ নতুন রাস্তায় দক্ষিণাঞ্চল নদীভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির ১নং ওয়ার্ড কমিটির আয়োজনে সভায় বক্তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবত দাবি জানিয়ে আসছি চাঁদপুর শহর রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড তা গ্রাহ্য না করে, যখন ভাঙন প্রক্রিয়া শুরু হয় তখন তড়িঘড়ি করে বালুভর্তি জিইও টেক্সটাইল বস্তা নদীতে ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। এ যেন ঝিনুক দিয়ে সমুদ্রে সেচ দেওয়ার মত অবস্থা।

তারা বলেন, নদীর পানি চলাচলের স্বাভাবিক গতিপথ অবরুদ্ধ করে, নদীর পাড়ে বস্তা ফেলে নদীর তীর রক্ষা করা যাবে না। এজন্য সঠিক সার্ভের মাধ্যমে, নদীর চলাচল স্বাভাবিক রাখার লক্ষে, মেঘনার বুকে জেগে থাকা অদৃশ্যমান ডুবো চর, ড্রেজিং এর মাধ্যমে কেঠে দিতে হবে। যা পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোঃ শামসুল আলম সাহেব অনুভব করেছেন। আমরা মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে ধন্যবাদ জানাই। তিনি অনুভব করতে পেরেছেন নদীর তীর রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন নদীতে জরুরীভাবে ড্রেজিং করা। অথচ বছরের পর বছর অতিবাহিত হয়েছে, মেঘনার বুকে জেগে উঠেছে অসংখ্য ডুবো চর কিন্তু তা ড্রেজিং করার মত কোন ব্যাবস্থাই পানি উন্নয়নবোর্ড করতে পারেনি। যদি সময়মত নদীর স্বাভাবিক চলাচল অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে নদীতে ড্রেজিং করা হতো, ডুবোচর কেটে দেওয়া যেত, তাহলে হয়তো চাঁদপুর শহর ভাঙ্গতে ভাঙতে ক্রমশ ছোট হয়ে আসতো না, আর বাপ দাদার ভিটে মাঠি হারিয়ে কাউকে অন্যত্র সরে যাওয়ার প্রয়োজন দেখা দিত না।

বক্তারা শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, যখনই শহর রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি এমপি তড়িৎ গতিতে ব্যবস্থা নিয়েছেন, প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা ছুঠে এসেছেন। তাদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে হয়তো ভাঙন কিছুটা রোধ হয়েছে কিন্তু স্থায়ীভাবে তা রোধ করা যায়নি। নদীর পাড়ে বসবাসরত মানুষের কান্না থামানো যায়নি।

তাই চাঁদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রানের দাবী চাঁদপুর শহর রক্ষায় অনতি বিলম্বে স্থায়ী বাঁধ দিতে হবে। নতুবা শহর রক্ষা বাঁধ রক্ষা করা যাবে না। আমরা চাঁদপুরের সুযোগ্য দুইজন মন্ত্রীর কাছে এই সভার মাধ্যমে অকুতি জানিয়ে বলতে চাই, দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার নামে সময় দীর্ঘ করবেন না, নদীসিকিস্তি মানুষসহ ব্যবসায়িক প্রানকেন্দ্র চাঁদপুর শহর রক্ষায় জরুরীভাবে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর করুন, পদ্মা, মেঘনার তিন নদীর মোহনা থেকে হাইমচর পর্যন্ত যে ডুবোচর রয়েছে সেগুলো কেঠে ড্রেজিং এর মাধ্যমে নদীর চলাচল স্বাভাবিকরণসহ নদীর নাবব্যতা ফিরিয়ে আনতে অনতিবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিন। যদি তা করা যায় তাহলে শুধু চাঁদপুর শহরই রক্ষা পাবে না। রক্ষা পাবে জাতীয় সম্পদ রুপালী ইলিশ। নদীর নাব্যতা ফিরে এলে মিঠা পানির ইলিশ প্রজনন সময় এখানে ছুটে আসবে আর বৃদ্ধি পাবে তাদের প্রজনন ক্ষমতা।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দক্ষিণাঞ্চল নদীভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফয়েজ আহম্মদ ভূঁইয়া। নদীভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির ১নং ওয়ার্ডের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন মন্টু গাজীর সভাপ্রধানে ও দক্ষিনাঞ্চল নদীভাঙন প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্যাংকার মজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন দক্ষিণাঞ্চল নদীভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির সহ-সভাপতি রোটারিয়ান গোপাল সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন মানিক, সদস্য কার্তিক সরকার, ১নং ওয়ার্ড কমিটির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী কুট্টি, ২নং ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি সহদেব দেবনাথ, সহ-সভাপতি প্রদীপ দেবনাথসহ নদীভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।