চাঁদপুর সদর হাসপাতালে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
জুলাই মাসেই আড়াইশ’ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের বর্তমান আইসোলেশন ওয়ার্ডটি হাই ফ্লো অক্সিজেন প্লান্টের আওতায় চলে আসবে। একই সাথে চাঁদপুরে কোভিড-১৯ পরীক্ষার কাজও শুরু হয়ে যাবে।

একেবারে সুনির্দিষ্টভাবে সময়ও বলা যায়। তা হচ্ছে : জুলাইর প্রথম সপ্তাহে হাসপাতালে অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপন হয়ে যাবে। আর তৃতীয় সপ্তাহে অর্থাৎ ২০ জুলাই থেকেই চাঁদপুরে কোভিড-১৯ তথা করোনাভাইরাস পরীক্ষার কাজ শুরু হয়ে যাবে।

এভাবেই খুব দৃঢ়তার সাথে চাঁদপুরবাসীর জন্যে বহুল প্রত্যাশিত সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি গত বুধবার রাতে চাঁদপুরের সংশ্লিষ্ট গণ্যমান্য লোকদের সাথে ভার্চুয়াল সভায় এ ঘোষণা দেন।

বুধবার রাত সাড়ে নয়টায় শুরু হয়ে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত সভাটি চলে। সভায় অংশ নেন প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক নেতা, রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন পর্যায়ের সমাজসেবকগণ।

শিক্ষামন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান সভা পরিচালনা করেন। সভার শুরুতে জেলা প্রশাসক চাঁদপুর জেলাবাসীর জন্যে চিকিৎসা সেক্টরে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়ায় শিক্ষামন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এরপর শিক্ষামন্ত্রী তাঁর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন আলোচনায়।

ডা. দীপু মনি বলেন, চাঁদপুরে বর্তমান বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাবকালে হাসপাতালে এসে যে কজন মারা গেছেন বলতে গেলে সবাই অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছেন। আর ওই রোগীগুলোও হাসপাতালে এমন সময় এসেছে যখন আর তাদেরকে সিলিন্ডার অক্সিজেনে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।

তাই খুবই প্রয়োজন দেখা দেয় হাসপাতালের বর্তমান আইসোলেশন ওয়ার্ডটি সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টের আওতায় নিয়ে আসা। বিষয়টি আমি জানার পর খুব দ্রুততার সাথে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেই। আমি আমার বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উদ্যোগে হাসপাতালে হাই ফ্লো অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপনে কাজ শুরু করি।

আশা করি জুলাইর প্রথম সপ্তাহে হাসপাতালের বর্তমান আইসোলেশন ওয়ার্ডটিতে অক্সিজেন প্লান্ট সংযোজন হয়ে যাবে। প্রথম অবস্থায় এখন এটিকে ত্রিশ বেডের আওতায় আনা হবে। পরে আরো বাড়ানো যাবে।

ডা. দীপু মনি বলেন, এটি হয়ে গেলে এই হাসপাতালে অন্তত অক্সিজেনের অভাবে কেউ মারা যাবে না। করোনা চলে গেলেও এটি সব সময়ের জন্যে কাজে লাগবে।

একইভাবে চাঁদপুরের করোনা টেস্টের জন্যে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এক সপ্তাহ থেকে ১২-১৩ দিন সময়ও লেগে যায় ঢাকা থেকে রিপোর্ট আসতে। এ সমস্যা সমাধানেও উদ্যোগী হন শিক্ষামন্ত্রী। এখানেও তিনি তার বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টকে কাজে লাগাচ্ছেন।

এই ট্রাস্টের সার্বিক অর্থায়নে জুলাইর তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই চাঁদপুরে শুরু হয়ে যাবে করোনা টেস্ট পরীক্ষা। আর এটি হবে চাঁদপুর শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোড এলাকায় অবস্থিত শিক্ষামন্ত্রীর বাসার সাথে লাগোয়া পেছনে পৌরসভার ভবনের দ্বিতীয়তলায় ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে নেয়া ফ্ল্যাটটিতে।

এছাড়া ট্রাস্টের সাথে যুক্ত থাকবে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ। ল্যাব চালু হওয়া পর্যন্ত সকল ব্যয় যোগান ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে দেয়া হলেও সাথে যুক্ত থাকবে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ।

শিক্ষামন্ত্রীর এই আলোচনার পর তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. মোঃ শাখাওয়াত উল্লাহ, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সাইন্সেস ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ডা. গৌতম বুদ্ধ দাস, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালক স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুননাহার চৌধুরী, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. জামাল সালেহ উদ্দীন আহমেদ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাহিত্য একাডেমীর মহাপরিচালক কাজী শাহাদাত, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান, আড়াইশ’ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোঃ মাহবুবুর রহমান, জেলা বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডা. মাহমুদুন্নবী মাসুম, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বেপারী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আবিদা সুলতানা প্রমুখ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন