চাঁদপুর সদর হাসপাতালে শিশু রোগীর ১২ বেডের বিপরীতে ভর্তি ১৩০!

কবির হোসেন মিজি :
গত কয়েক দিনের প্রতিক‚ল আবহাওয়ায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে আড়াই’শ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল (সদর) হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগীর চাপ। গত তিন দিনে শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। বিছানা সংকটে হিমশিম খাচ্ছে রোগী ও রোগীর লোকজনসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এসব রোগীদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি বলে জানা গেছে।

রোববার দুপুরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের শিশু বিভাগে প্রচুর রোগী ভর্তি রয়েছে। বিছানা সংকটে হাসপাতালের করিডোর এবং বারান্দার মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন রোগীরা। যেখানে শিশু ওয়র্ডে মাত্র ১২ নির্ধারিত বিছানা রয়েছে সেখানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৩০জন।

জানা যায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গত ৩ দিনে শিশু ওয়ার্ডে সর্বমোট ১৩০জন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে গত ১১ ফেব্রুয়ারি সারাদিনে সর্বমোট ৩৫জন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ভর্তি হয়েছে ৩১জন এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি সারাদিনে সর্বমোট ৪০জন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে।

এছাড়া ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল পর্যন্ত সর্বমোট ২০জন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। তবে শনিবার বেশ কিছু রোগী ছুটি নিয়েছে। বর্তমানে রোববার দিন পর্যন্ত হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে সর্বমোট ৮৪জন শিশু রোগী ভর্তি রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই বিভাগে কর্তব্যরত নার্সরা। এসব শিশু শিশু রোগীদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছেন তারা।

জানা যায়, চাঁদপুরে গত কয়েক দিনের এই শীত-এই গরমের প্রতিক‚ল আবহাওয়ায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। তিন দিনেই হাসপাতালে দেড় শতাধিক শিশু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

সরজমিনে দেখা যায়, রোগীদের চাপে হাসপাতালের কোথাও ঠাঁই নেই। শিশু ওয়ার্ডের সবক’টি বিছানা পরিপূর্ণ হয়ে মেঝেতে ও রোগীদের জন্য বিছানা পাতা হয়েছে। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পুরুষ ওয়ার্ডকে আইসোলেশন ইউনিট করার কারণেই রোগীদের বিছানা এবং স্থানের সংকট দেখা দিয়েছে।

এখন হাসপাতালের তৃতীয় তলার শিশু ওয়ার্ডকে দু’ভাগে বিভক্ত করে শিশু এবং পুরুষ রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। এ কারণে রোগীদের চাপে মেঝেতে এবং কড়িডোরেও বিছানা পেতে রোগীরা চিকিৎসেবা নিচ্ছেন। এসব রোগীরা জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, খিচুনী এবং নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এছাড়া অনেক শিশু রোগীকে অভিভাবকরা হাসপাতালে নিয়ে এসে ডাক্তার দেখিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে চলে যান। একইভাবে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন বয়স্ক রোগীরাও।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুজাউদদৌলা রুবেল এবং ডা. মো. আসিবুল আহসান চৌধুরী বলেন, হঠাৎ শৈত্য প্রবাহের কারণে বৃদ্ধ এবং শিশুরা হঠাৎ নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। তাই বেশ কয়েক দিন হাসপাতালে রোগীদের প্রচুর চাপ দেখা দিয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।