দার্জিলিং ও সিকিম ভ্রমণে মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীদের ভিসায় যে পোর্ট থাকতে হবে

রহিম বাদশা :
‘পাহারের রাণী’ খ্যাত পর্যটকদের স্বর্গরাজ্য ‘দার্জিলিং’ আর ‘প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড’ খ্যাত ‘সিকিম’ ভ্রমণ এখন বাংলাদেশীদের জন্য অনেক আরামদায়ক, সহজলভ্য ও স্বস্তিকর হয়েছে। ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি রুটে ‘মিতালী এক্সপ্রেস’ নামের আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ায় আগের চেয়ে কম সময়ে ও কম ভোগান্তিতে দার্জিলিং কিংবা সিকিম যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

শুধু তাই নয়, এই ট্রেনে করে নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) পৌঁছে খুব সহজেই সড়কপথে ভুটান ও নেপাল ভ্রমণ করা যাবে। কারণ, বাংলাদেশ থেকে সড়কপথ/ট্রেনে দার্জিলিং, সিকিম, ভুটান, নেপাল ভুটান ভ্রমণের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট সিলিগুড়ি। যা নিউ জলপাইগুড়ি রেলস্টেশনের খুব কাছেই অবস্থিত।

বাংলাদেশের নীলফামারীর চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ি রেলপথে ১৯৬৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দার্জিলিং মেইল ট্রেনটি চলাচল করেছিল। এরপর পাক-ভারত যুদ্ধের সময় তা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ প্রায় ৫৭ বছর পর এই রেলপথে পুনরায় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হলেও এখন পর্যন্ত প্রত্যাশিত যাত্রী পাচ্ছে না ট্রেনটি।

মূলত মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারত ভ্রমণের ভিসায় যে পোর্ট থাকার প্রয়োজন সেটি না থাকায় অনেকে এখনও ট্রেনটির যাত্রী হতে পারছেন না। তবে এখন যারা ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদন করছেন তারা খুব সহজেই তাদের ভিসায় ‘বাই রেইল নিউ জলপাইগুড়ি’ পোর্ট পাচ্ছেন।

শুধু তাই নয়, পূর্বে পাওয়া মাল্টিপল ভিসার মেয়াদ থাকলে ভারতীয় ভিসা সেন্টারে পোর্ট সংযুক্তির আবেদন করে ‘বাই রেইল নিউ জলপাইগুড়ি’ পোর্ট পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এ জন্য আবেদনের সাথে ৩০০ টাকা ফি পরিশোধ করতে হয়।

বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ‘ইন্ডিয়ান ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টার (আইভেক), বাংলাদেশ’ এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘যারা মিতালি এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করতে চান তারা দয়া করে নিশ্চিত করুন যে তাদের ভিসা আইসিপি নিউ জলপাইগুড়ির মাধ্যমে প্রবেশের জন্য অনুমোদন করা হয়েছে’।

ইন্ডিয়ান ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টার (আইভেক), বাংলাদেশ-এর একজন কর্মকর্তা সোমবার (৬ জুন) এ প্রতিনিধিকে বলেন, মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি তথা ভারত যেতে হলে ভারতীয় ভিসায় অবশ্যই ‘বাই রেইল নিউ জলপাইগুড়ি’ পোর্ট উল্লেখ থাকতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আইভেক-এর সকল সেন্টারে উল্লেখিত পোর্টে ভিসা পাওয়া অথবা পোর্ট সংযুক্তি (যাদের পূর্বে প্রাপ্ত মাল্টিপল ভিসার মেয়াদ আছে) করতে পারবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কুমিল্লাস্থ আইভেক সেন্টারের মাধ্যমেও ‘বাই রেইল নিউ জলপাইগুড়ি’ রুটের ভারতীয় ভিসা পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন সূত্রে জানা গেছে, মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট ক্রয় করতে হলে পাসপোর্ট ও ‘বাই রেইল নিউ জলপাইগুড়ি’ পোর্ট উল্লেখ করা ভারতীয় ভিসা প্রদর্শন করতে হয়। শুরুর দিকে ভিসার পোর্ট জটিলতার কারণে মিতালী এক্সপ্রেসে যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে অনেক কম। তবে ভারতীয় ভিসায় ‘বাই রেইল নিউ জলপাইগুড়ি’ পোর্ট সহজলভ্য হলে যাত্রী সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তৃতীয় ট্রেন ‘মিতালী এক্সপ্রেস’ বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়েছে গত ১ জুন। মিতালী এক্সপ্রেস ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে বাংলাদেশের ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করবে। এই রেলপথের দূরত্ব ৫৩০ কিলোমিটার। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশে ৪৪৬ কিলোমিটার ও ভারত অংশে ৮৪ কিলোমিটার।

ট্রেনটি হলদিবাড়ি (ভারত)-চিলাহাটি (বাংলাদেশ) রুট দিয়ে চলাচল করবে। মিতালী এক্সপ্রেস নিউ জলপাইগুড়ি ছেড়ে হলদিবাড়ি, চিলাহাটি, পার্বতীপুর হয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে পৌঁছাবে।

নিউ জলপাইগুড়ি থেকে চিলাহাটির দূরত্ব ৭১ কিলোমিটার। চিলাহাটি থেকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনের দূরত্ব ৪৫৩ কিলোমিটার। এ দূরত্বে চলতে ট্রেনটির সময় লাগবে প্রায় ১০ ঘণ্টা।

মিতালী এক্সপ্রেস সপ্তাহের প্রতি রবি ও বুধবার নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ঢাকায় আসবে। আর প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে নিউ জলপাইগুড়িতে যাবে।

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে ট্রেনটি ছাড়বে স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে। ঢাকায় পৌঁছাবে স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩০ মিনিটে।

অন্যদিকে ঢাকা থেকে ট্রেনটি ছাড়বে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৫০ মিনিটে। নিউ জলপাইগুড়িতে ট্রেনটি পৌঁছাবে পর দিন স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে।

মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনে এসি এক্সিকিউটিভ ও এসি চেয়ার কার শ্রেণির আসন আছে। ক্যান্টনমেন্ট থেকে নিউজলপাইগুড়ি স্টেশন পর্যন্ত ট্রেনটির সর্বোচ্চ ভাড়া হবে ৫২৫৫ টাকা। এটি এসি বার্থের টিকেটের মূল্য। এসি সিটের ভাড়া জনপ্রতি ৩৪২০ টাকা। আর এসি চেয়ারের ভাড়া ২৭৮০ টাকা।

পাঁচ বছর বয়সের কম যাত্রীদের ভাড়া হবে টিকেট মূল্যের অর্ধেক। যাত্রীদের ভাড়ার মধ্যেই ভ্রমণ কর অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে যাত্রীদের আর নতুন করে কোন ভ্রমণ কর দিতে হবে না। ট্রেনে ক্যাটারিং সুবিধাও আছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী সর্বোচ্চ ৩৫ কেজি পর্যন্ত ওজনের মালামাল বিনামূল্যে বহন করতে পারবেন।

রেলওয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন আর ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন, কলকাতায় টার্মিনাল স্টেশন ও ফেয়ারলিপ্লেস রেলওয়ে বিল্ডিং থেকে মিতালী এক্সপ্রেসের টিকেট পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।