নদীতে ঘুরছে না লঞ্চের পাখা চলছে না সংসারের চাকা!

তালহা জুবায়ের :
মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে সকল নৌ-রুটে বন্ধ রয়েছে লঞ্চ চলাচল। হঠাৎ করে কর্ম হারিয়ে বিপাকে পড়েছে চাঁদপুরের শহ¯্রাধিক লঞ্চঘাট শ্রমিক ও নৌযান কর্মী। এই দুঃসময়ে কোন সহায়তা না পেয়ে মানবেতন জীবন কাটছে তাদের। পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকতে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছে শ্রমিকরা।

চাঁদপুর লঞ্চঘাটের শ্রমিক সর্দার আব্দুর রশিদ। পঞ্চাশোর্ধ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবত কুলি কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। কিন্তু চলমান লকডাউনে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি।

আব্দুর রশিদ বলেন, আমার ৫৫ বছরের জীবনে ৩৫ বছর যাবত লঞ্চঘাটে কুলি কাজ করে আসছি। দীর্ঘ কর্ম জীবনে অনেক খারাপ সময় পাড় হয়েছে। অনেক সময় হরতাল বা প্রাকৃতিক কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকতো। কিন্তু এখনকার মত এমন এমন কঠিন সময় আর কখনো আসেনি আমার জীবনে। গত ২০ দিন যাবত লকডাউনের কারণে ঘাটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এর সাথে বন্ধ হয়ে গেছে আমাদের কাজ কর্মও। লঞ্চের পাখা ঘোরা বন্ধের সাথে আমাদের সংসারের চাকা ঘোরাও বন্ধ হয়ে গেছে। যে লঞ্চ চলাচল শুরু হবে আল্লাহই ভালো জানেন।

তিনি বলেন, এই ঘোর দুঃসময়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে এগিয়ে আসেনি কেউ। সামনের দিনগুলো কিভাবে কাটবে তা নিয়ে দুঃচিন্তার সীমা নেই। আমরা সরকারের কাছে সহয়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত লঞ্চ চলাচলে দাবি জানাচ্ছি।

শুধু আব্দুর রশিদই নয়, কর্ম হারিয়ে তার মত মানবেতর জীবন কাটছে চাঁদপুর লঞ্চঘাটের শ্রমিক ও লঞ্চ কর্মীদের। পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে রয়েছে তারা।
লঞ্চঘাট শ্রমিক আব্দুল কাদের, রশিদ সর্দার বলেন, বর্তমানে দেশে যানবাহন, কল-কারখানা, দোকান, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সকল কিছুই স্বাভাবিক ভাবে চলছে। কিন্তু করোনার কথা বলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে করে আমরা হাজারো মানুষ কর্মহীন হয়ে মানবেতন জীবন কাটাচ্ছি। কিন্তু আমাদের খবর কেউ রাখেনি। কেউ আমাদেরকে একটুখানি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি। সামনে যে ঈদ আসছে, আমাদের বউ পোলাপানদের জন্য কিছুতো কিনা দূরের কথা একটু সেমাই কেনার সামর্থও নেই। সরকার যেন আমাদের দিকে একটু দৃষ্টি দেয় সেই অনুরোধ করছি।

এমভি ঈগল-৭ লঞ্চের স্টাফ মো. সওকত বলেন, লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় আমরা যারা স্টাফ রয়েছি তারা অনেক বিপদে আছি। আমাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসারের খবর মিলাতে পারছি না। এতে করে শত শত লঞ্চ স্টাফের মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। সরকারের কাছে দাবি, অচিরেই যেন লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেয়। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারের সকল নির্দেশনা মেনে লঞ্চ চলানো দাবি জানাই। এভাবে কর্মহীন থাকলে আমাদের পরিবারগুলো পথে বসবে।

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর কর্মকর্তা কাউসারুল আলম বলেন, দেশে লকডাউনের কারণে গত ১৪ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য সারা দেশে চলাচল বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী লঞ্চ। এতে করে চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১২টি রুটে চলাচল করা প্রায় অর্ধশত লঞ্চ বিভিন্ন ঘাটে নোঙর করা আছে।
তিনি বলেন, গত বছর দেশে করোনার সময়ে চাঁদপুরের লঞ্চঘাট শ্রমিকদেরকে সহায়তা করা হয়েছিল। এবছর এখনো পর্যন্ত কোন সহায়তা করা হয়ীন।

তিনি আশা করেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চাঁদপুর লঞ্চঘাট শ্রমিকদের সহায়তা করা হবে। তাছাড়া যারা লঞ্চের কর্মী রয়েছেন তাদেরকে কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে সহায়তা করার কথা রয়েছে। আশাকরি তাদেরকেও অচিরেই সহায়তা করা হবে। পূণরায় লঞ্চ চলাচল শুরুর বিষয়ে তিনি বলেন, এটি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়। তারা যখন লঞ্চ চলাচলের জন্য উপযুক্ত সময় মনে করবেন তখন থেকে পূণরায় চাঁদপুরসহ সারা দেশে লঞ্চ চলাচল শুরু করা হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন