পৌর নির্বাচন : ফরিদগঞ্জের ১৩ কেন্দ্রের সবগুলো ও কচুয়ার ৬ কেন্দ্র ঝঁকিপূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চতুর্থ ধাপে আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি কচুয়া ও ফরিদগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন। কচুয়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে ফরিদগঞ্জের ৯টি ওয়ার্ডের ১৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। কচুয়ার ৯টির মধ্যে ৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে ফরিদগঞ্জের ১৩টি কেন্দ্রের সবগুলো কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে স্ব স্ব রিটার্নিং অফিসার জানিয়েছেন।

শনিবার সকল কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের সকল সামগ্রী প্রেরণ করা হয়েছে। কচুয়ায় ইভিএমে ১৯ হাজার ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে ১জন মেয়র, ৩জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও ৯জন সাধারন কাউন্সিলর নির্বাচন করবে। শুক্রবার ইভিএমে মক ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে ৯জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তাছাড়া অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে দুই প্লাটুন র‌্যাব, ৩ প্লাটুন বিজিবি, ৩টি মোবাইল টীম, ৩টি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও প্রতি কেন্দ্রে ১৩ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার ও চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ তোফায়েল হোসেন জানান, নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সকল কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের সামগ্রী প্রেরণ করা হয়েছে।

নির্বাচনে মেয়র পদে ৩জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ৩টি পদের বিপরীতে ৮জন ও সাধারণ কাউন্সিলর ৯ ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ৪৪জন। আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নাজমুল আলম স্বপন (নৌকা), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহসান হাবিব প্রাঞ্জল (মোবাইল) ও বিএনপি দলীয় প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির প্রধান (ধানের শীষ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এদিকে আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী নাজমুল আলম স্বপন বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পৌরসভার অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, এ উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত রাখতে জনগণ আবারও আমাকে নির্বাচিত করবে এবং আমি জয়ের ব্যাপারে শাতভাগ আশাবাদী।

অন্যদিকে ১৯.৭৫ বর্গকিলোমিটারের ৯টি ওয়ার্ডে ২০টি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩১ হাজার ৮৪জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১৫ হাজার ৯শ’ ৩৪জন ও মহিলা ভোটার রয়েছে ১৫ হাজার ১শ’ ৫০জন ।

পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল খায়ের পাটওয়ারী, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেন পাটওয়ারী এবং ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা মুজাহিদ কমিটির সভাপতি হাফেজ মাও. দেলোয়ার হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সংরক্ষিত ৩টি আসনের ১১জন প্রার্থীরা হলেন : ১নং ওয়ার্ডে কুসুম বেগম (জবা ফুল), জান্নাতের নেছা (চশমা), রজিনা (টেলিফোন), শাহীন আক্তার (আনারস), ২নং ওয়ার্ডে খতেজা বেগম (চশমা), সাবিনা ইয়াছমিন (জবা ফুল), হাছিনা আক্তার (আনারস), ৩নং ওয়ার্ডে গীতা রানী দাস (টেলিফোন), ফাতেমা বেগম (চশমা), মাহমুদা বেগম (জবা ফুল), সেলিনা আক্তার যুথী (আনারস)।

পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৬২জন প্রার্থী : ১নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৩৬৬৪ তার মধ্যে পুরুষ ১৯২৯ ভোট, মহিলা ১৭৩৭ ভোট। এই ওয়ার্ডে কাউন্সিল পদে নির্বাচন করছেন ১০জন তারা হলেন, ওমর ফারুক (ব্রিজ), আক্তার হোসাইন (পানির বোতল), আমিনুল হক (উঠ পাখি), আরিফ হোসেন প্রতিক (গাজর), আলমগীর হোসেন (পাঞ্জাবী), ইসমাইল হোসেন (টেবিল ল্যাম্প), নুরুজ্জামান (ঢেঁড়শ), মোস্তফা কামাল সুমন (ফাইল কেবিনেট), শাহ জালাল (ডালিম) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

২নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ২৭৯৪ তার মধ্যে পুরুষ ১৩৮৭ ভোট, মহিলা ১৪০৭ ভোট । এই ওয়ার্ডে কাউন্সিল পদে নির্বাচন করছেন ৮জন তারা হলেন আবদুর রব (ডালিম), আবুল হাসেম (পাঞ্জাবী), রুবেল মিয়াজী (উঠপাখি), সাইফুর রহমান (পানির বোতল), সারোয়ার হোসেন (ফাইল কেবিনেট), হারুনুর রশিদ (ব্রিজ), হুমায়ুন কবির (টেবিল ল্যাম্প), রাশেদ (ব্ল্যাক বোর্ড) নির্বাচন করছেন।

৩নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৩৩০১ তার মধ্যে পুরুষ ১৭২১ ভোট , মহিলা ১৫৮০ ভোট । এই ওয়ার্ডে ভোট কেন্দ্র রয়েছে ২টি, এই ওয়ার্ডে কাউন্সিল পদে নির্বাচন করছেন ৪জন তারা হলেন ইউনুছ বেপারী (পানির বোতল), জায়েদ হোসেন (ডালিম), মহসিন তালুকদার (পাঞ্জাবী), জয়নাল আবেদীন (উঠপাখি) নিয়ে নির্বাচন করছেন।

৪নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৪৫০৮ তার মধ্যে পুরুষ ২৩৪৪ ভোট, মহিলা ২১৬৪ ভোট। এই ওয়ার্ডে পুরুষ এবং মহিলাদের আলাদা আলাদা ভোট কেন্দ্র রয়েছে, এই ওয়ার্ডে কাউন্সিল পদে নির্বাচন করছেন ৬জন তারা হলেন এস এম এম ফজলে ফজলে রাব্বী (ডালিম), আবদুল মান্নান (উঠপাখি), আবু তাহের (ফাইল কেবিনেট), শফিকুল ইসলাম (ব্ল্যাক বোর্ড), শাহ জাহান মিজি (পাঞ্জাবী) নির্বাচন করছেন। তবে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ে প্রত্যাহার না করলেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মো. বিল্লাল (পানির বোতল) প্রতীকের প্রার্থী।

৫নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ২৮৮৫ তার মধ্যে পুরুষ ১৪৭৫ ভোট, মহিলা ১৪১০ ভোট। এই ওয়ার্ডে কাউন্সিল পদে নির্বাচন করছেন ৬জন তারা হলেন মনির হোসেন গাজী (গাজর), আবুল হাসান (পাঞ্জাবী), আমিন হোসেন (ব্ল্যাক বোর্ড), খলিলুর রহমান (ডালিম), জাহিদ হোসেন (পানির বোতল), সোহেল দেওয়ান (উঠপাখি) নির্বাচন করছেন।

৬নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ২০৬৩ তার মধ্যে পুরুষ ১০৭৫ ভোট, মহিলা ৯৮৮ ভোট। এই ওয়ার্ডে কাউন্সিল পদে নির্বাচন করছেন ৪জন তারা হলেন : আল-আমিন মোল্লা (উঠপাখি), মাহাবুব আলম (পানির বোতল), মাজহারুল আলম (টেবিল ল্যাম্প), মজিবুর রহমান (পাঞ্জাবী নির্বাচন করছেন।

৭নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ২৭৬০ তার মধ্যে পুরুষ ১৩৭৫ ভোট, মহিলা ১৩৮৫ ভোট । এই ওয়ার্ডে কাউন্সিল পদে নির্বাচন করছেন ১০জন তারা হলেন : আহছান উল্যাহ্ (টিউব লাইট), কাজী কাউছার (ব্ল্যাক বোর্ড), আলী হায়দার পাঠান টিপু (টেবিল ল্যাম্প), মোহাম্মদ হোসেন (পানির বোতল), এমরান হোসেন (পাঞ্জাবী), জহির হোসেন মিজি (ফাইল কেবিনেট), জাকির হোসেন (গাজর), তাজুল ইসলাম (উঠপাখি), মশিউর রহমান (ডালিম), এস. এম সোহেল রানা (ব্রিজ) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

৮নং ওয়ার্ড ভোটার সংখ্যা ৪৩৭৭ তার মধ্যে পুরুষ ২২৪৯ ভোট, মহিলা ২১২৮ ভোট। এই ওয়ার্ডে কেন্দ্র ২টি, এই ওয়ার্ডে কাউন্সিল পদে নির্বাচন করছেন ৮জন, তারা হলেন জাকির হোসেন গাজী (উঠপাখি), মাহাবুব আলম (ব্ল্যাক বোর্ড), আমান উল্লা আমান (ডালিম), উৎফল চন্দ্র দাস (ঢেঁড়শ), কামরুল ইসলাম (টেবিল ল্যাম্প), দিলীপ চন্দ্র দাস (পানির বোতল), মফিজ উদ্দিন জনি (ব্রিজ), মিজান পাটওয়ারী (পাঞ্জাবী) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

৯নং ওয়ার্ড ভোটার সংখ্যা ৪৭৩২ তার মধ্যে পুরুষ ২৩৮১ ভোট মহিলা ২৩৫১ ভোট। এই ওয়ার্ডে কেন্দ্র ২টি, এই ওয়ার্ডে কাউন্সিল পদে নির্বাচন করছেন ৬জন তারা হলেন আবু জাফর (টেবিল ল্যাম্প), রসু মিয়া (পানির বোতল), তোফয়েল আহাম্মেদ (ব্ল্যাক বোর্ড), মাসুদ আলম ভূঁইয়া (উঠপাখি), মাহমুদুল হাছান মঞ্জু (পাঞ্জাবী) ও মো. সাজ্জাদ হোসেন (ডালিম) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদ হোসেন জানান, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার নিয়ে ৫ স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজিবি ১শ’ ২০জন, এপিবিএন (সাদা পোষাকধারী) ১৫জন, র‌্যাব ৩০জন, পুলিশ ৩শ’ ২জন, আনসার ১শ’ ১৫জন মোতায়েন রয়েছে। এ মুহূর্ত পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অক্ষুন্ন রয়েছে। আশা করছি, শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার শিউলী হরী জানান, ভোটের সাবির্ক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।