ফরিদগঞ্জে অবৈধ ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন চলছেই : প্রশাসন নীরব!

নিজস্ব প্রতিনিধি :
ফরিদগঞ্জে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ভাবে কৃষি জমি, জলাশয় ও বাড়ির আঙ্গিনায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করলেও নীরব ভ‚মিকায় রয়েছে স্থানীয় ও উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বালু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায়, হুমকির মুখে রয়েছে রাস্তা, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি।

দেখা যায়, উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের নয়ারহাট, চাঁদপুর, চরমুথুরা এলাকায় অবৈধ ড্রেজিং চলছেই। এছাড়া প্রশাসনের নাকের ডগায় পৌর সদরের চাঁদপুর-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ভাটিয়ালপুর গ্যাসপাম্প সংলগ্ন সরকারি জমি থেকে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সাবেক এক কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে জনৈক তোফাজ্জল হোসেন অবৈধ ড্রেজিং করলেও প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় বইছে। এই ড্রেজিং এর কারণে উক্ত সড়কে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিছেয়ে এবং পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের মীরপুরে কয়েকটি স্থানে অবৈধ ড্রেজিং চলছেই।

এদিকে উপজেলার সুবিদপুর পূর্ব, সুবিদপুর পশ্চিম, গুপ্টি পূর্ব, গুপ্টি পশ্চিম, রূপসা উত্তর ও চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নে ক্ষমতাশীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও নেতার অনুসারী পরিচয়ে ড্রেজিং করে আসছে হরহামেশা।
এদিকে পৌর এলাকার ভাটিয়ালপুরের অবৈধ ড্রেজার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তার জব্দ করে নিয়ে আসার কথা বললেও তা আদৌ জব্দ করা হয়নি এবং পরের দিন একই স্থানে ড্রেজার চলতে দেখা যায়।

অন্যদিকে অবৈধ ড্রেজিং বন্ধে কঠিন আইনের বিধান থাকলেও মানছে না কেউই এবং আইন প্রয়োগে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিরবতাই কি অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনে বৈধতার কারণ? এমনটাই মনে করছে সচেতন মহল।
এ বিষয়ে বিভিন্ন এলাকার সাধারন জনগণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের জোগসাজশে অবৈধ ড্রেজিং করছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। প্রশাসন এভাবে নীরব থেকে কি অবৈধতাকে বৈধতা দিচ্ছে?
এ বিষয়ে পৌর ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মজিবুর রহমান বলেন, সরকারি জমি থেকে অবৈধভাবে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলনে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নিলে আমাদের করনীয় কি আছে?

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তার বলেন, ড্রেজিংয়ের বিষয়ে আমাদেরকে অবহিত করলেই আমরা সাথে সাথে তা বন্ধে করতে পদক্ষেপ নিচ্ছি। তারপরও যদি কোন স্থানে ড্রেজিং করে থাকে তা হলে আমরা খোঁজ নিয়ে তা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

ভাটিয়ালপুরের অবৈধ ড্রেজার অপসারনের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, আমি ড্রেজারের যন্ত্রাংশ নিয়ে আসার পরেও কিভাবে চলছে তা আমার বোধগম্য নয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিউলি হরি বলেন, ড্রেজিংয়ের বিষয়ে সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্তে¡ও কেউ যদি ড্রেজার চালায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন