বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে ‌’মুজিব দর্শনে উন্নত বাংলাদেশের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। প্রধান আলোচক ছিলেন চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) ড. মো. নাছিম আখতার।

চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশার পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইউনুছ বিশ্বাস, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন্নাহার, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী, চাঁদপুরের পিপি অ্যাড. রনজিত রায়, পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার, বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোশারেফ হোসেন, আল -আমিন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ কর্নেল (অব.) ড. মো. শাহাদাত হোসেন, হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতানা ফেরদৌস আরা, মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রাণ কৃষ্ণ দেবনাথ, কবি ও ছড়াকার ডা. পীযূষ কান্তি বড়ুয়া।

চাঁদপুর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি যথাক্রমে অ্যাড. ইকবাল-বিন-বাশার, কাজী শাহাদাত, অধ্যক্ষ জালাল চৌধুরী, বি এম হান্নান ও শরীফ চৌধুরী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল রুশদী, মির্জা জাকির, লক্ষ্মন চন্দ্র সূত্রধর, এইচএম আহসান উল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল-ইমরান শোভন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শান্ত, ইব্রাহিম রনি, সাপ্তাহিক চাঁদপুর সকালের প্রকাশক ও সম্পাদক অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, সিনিয়র সাংবাদিক পার্থনাথ চক্রবর্তী, চাঁদপুর জেলা ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ লতিফ, চাঁদপুর জেলা ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি একে আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তালহা জুবায়ের, মতলব উত্তর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি বোরহান উদ্দিন ডালিম প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ, মৃক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীরতা এই শব্দগুলোর অবিচ্ছেদ্য। বঙ্গবন্ধু শিশু বয়স থেকেই মানুষের প্রতি ভালোবাসা ছিল। বাল্য বয়সেই তার বই-খাতা, জামা-কাপড় দরিদ্র মানুষদের দিয়েছেন। এ নিয়ে তার বাবা-মা অখুশি হননি, বরং দরিদ্র মানুষের প্রতি তার ভালোবাসাকে তারা উজ্জীবিত করেছিলেন। তিনি তার ছেলেবেলায় শাসন, শোষণ, সাম্প্রদায়িকতা দেখেছেন। সে জন্যে ছেলেবেলাতেই তার মধ্যে সাহস সঞ্চারিত হয়েছে। তিনি মানুষে মানুষে সম্প্রীতি গড়ে তুলবার স্বপ্ন দেখেছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই দেশে ইতিহাসও হাইজ্যাক হয়েছিলো। দীর্ঘদিন আমাদের মিথ্যে ইতিহাস শিখানো হয়েছিলো। যারা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস লিখেছেন তারা অন্যে তথ্য লুকিয়ে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ভাষা আন্দোলের জন্যে জেল খেটেছেন। বঙ্গবন্ধুর তার সতীর্থদের নিয়ে যে আন্দোলন গড়ে তুলেছেন তার থেকেই ভাষা আন্দোলন। আমাদের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ সকল স্বাধীকার আন্দলনে আওয়ামী লীগের অবদান। তিনি স্বাধীনতাকামী বাঙালীকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।। তিনি ৬দফা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন এই ৬দফা থেকেই আমরা ১দফায় পোঁছে যাবো।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর দেয়া পথরেখা ধরে জননেত্রী শেখ হাসিনা অপ্রতিরোধ্য গতিতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি শিক্ষানীতি, বিজ্ঞানমনস্ক, কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত শিক্ষাকে এগিয়ে নিচ্ছেন। আজকেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সাহিত্য- সাংস্কৃতিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু প্রাসঙ্গিক। বাঙালীর জীনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। আজকে দেশের যে অগ্রযাত্রা তা বঙ্গবন্ধুর দেখানো রুপরেখারই অংশ। করোনার মহামারিতেও বঙ্গবন্ধুকন্য সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হয়। এখন আর ভাষার জন্যে, দেশের জন্যে রক্ত দিতে হবে না। শুধুমাত্র যার যার অবস্থান থেকে দেশটাকে ভালোবাসলেই বঙ্গবন্ধুর প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হবে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্যে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) ড. মো. নাছিম আক্তার বলেন, দর্শন হলো এমন একটি গুণ যা ভেতর থেকে নিজেকে উজ্জীবিত করে। সুদর্শন, ইতিবাচক দর্শন। এটি যে দেশে যতটা সে দেশ ততটা উন্নত। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আমরা স্বাধীন দেশ পেতাম না। বঙ্গবন্ধুর দর্শন ছিলো ইতিবাচক। বাঙালির মুক্তির জন্যে বঙ্গবন্ধু আজীবন সংগ্রাম করেছেন। জীবনের সাড়ে ১২টি বছর তিনি জেলে কাটিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু যদি চাইতেন তবে তিনি হয়ত মন্ত্রীত্ব পেতেন, বড় শিল্পপতি হতেন কিন্তু হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী হতে পারতেন না। তার পিতা বলেছিলেন রাজনীতি করলেই হবে না, লেখাপড়া করতে হবে। লেখাপড়া ছিলো তার দর্শনের একটা দিক। তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাও সেই দর্শনকে ধারণ করে দেশে শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিচ্ছেন। যাতে সহযোগীতা করছেন আমাদের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলো প্রযুক্তি শিক্ষার কারনে এগিয়ে যাচ্ছে। অনেক উন্নত দেশে খনিজ সম্পদ নেই, কিন্তু খনিজসম্পদ আমদানি করে সেগুলো সঠিক ব্যবহার করে এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর অর্থনীতির দর্শনও ছিলো। গবেষণামনষ্ক ছিলেন আমাদের বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞানমনষ্কদের উৎসাহ দিতেন। আমরা যদি বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গড়তে চাই তাহলে প্রযুক্তিগত শিক্ষাকে এগিয়ে যেতে হবে। বঙ্গবন্ধুর মাদকবিরোধী দর্শন ছিলো। ইউরোপের অনেক দেশ আফ্রিকাসহ পৃথীর অনেক দেশকে মাদকের ঘোরে রেখে তারা ফয়দা লুটছে। আমাদের দেশেও বার্মাসহ প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলো মাদক ঢুকিয়েছে। তারা আমাদের ঘুমিয়ে রেখে উন্নয়নের অগ্রযাত্রবে দাবিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সবসময় মাদকের বিরুদ্ধে ছিলেন। কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন দর্শন ছিলো বঙ্গবন্ধু। দুর্নীতি সম্পর্কে তিনি সব সময় সোচ্চার ছিলেন।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ তার বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে আমরা হয়তো স্বাধীন বাংলাদেশ পেতাম না। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে জাতির জনক পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে দেশটিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলে। অথচ এই মহান মানুষটিকে পচাত্তরের পনের আগস্টে ঘাতকরা স্বপরিবারে হত্যা করে।

পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ তার বক্তব্যে বলেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের পজেটিভ কাজগুলো আমার খুব ভালো লেগেছে। তারা সব সময় ভালো কাজের সাথে আছেন। এটি সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখেন।

একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে এটি খুববেশি প্রয়োজন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত করেন সাংবাদিক হাসান মাহমুদ। গীতা পাঠ করেন লক্ষ্মণ সূত্রধর।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।