বৃষ্টিস্নাত দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী পূজা অনুষ্ঠিত : আজ মহাষ্টমী

নিজস্ব প্রতিবেদক :
টানা বৃষ্টির মধ্যেই চলছে শারদীয় দুর্গোৎসব। শুক্রবার মহাসপ্তমী তিথিতে দুপুর ১২টা ১ মিনিটে সব মন্দিরে-মণ্ডপে করোনামুক্তি ও সবার আরোগ্য কামনা করে একযোগে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রার্থনায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশের মানুষের করোনা মুক্তির প্রত্যাশায় আরাধনা করা হয়। একই সঙ্গে দেশের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

দোলায় চেপে দেবীদুর্গা মর্ত্যলোকে এসেছেন। হিন্দুশাস্ত্রবিদেরা বলছেন, এর অর্থ মড়ক। পূজা বা তার পরেও মহামারি পরিস্থিতি বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগ ও মহামারির প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার এই শঙ্কা দূর করতেও মা দুর্গার কাছে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে, যেন দুর্গতিনাশিনীর কৃপায় পুরো বিশ্ববাসী করোনামুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।

এর আগে সকাল সোয়া ৭টায় নবপত্রিকা প্রবেশ ও সপ্তমীবিহিত পূজা শুরু হয়ে শেষ হয় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। পূজা শেষে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ভক্তরা অঞ্জলি দেন। তবে করোনা মহামারির কারণে এবার অঞ্জলি দেয়ার ব্যবস্থা করা হয় সরাসরি টেলিভিশনে এবং ফেসবুক লাইভে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে দুর্গতিনাশিনী দেবীদুর্গা ভক্তের প্রাণের আরাধনায় পূজিত হচ্ছেন মন্ডপে মন্ডপে। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বদলে দিয়েছে এবারের প্রেক্ষাপট। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনেকাংশেই দূর থেকে সাত্ত্বিক পূজায় সীমাবদ্ধ রয়েছেন ভক্তরা। মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত প্রতিদিনের মায়ের পূজা সমাপনান্তে অঞ্জলিও দিচ্ছেন প্রযুক্তির মাধ্যমে। যেসব মণ্ডপে সরাসরি অঞ্জলি হচ্ছে সেখানেও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ২০ থেকে ২৫জন ভক্ত সুযোগ পাচ্ছেন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আড়ম্বরপূর্ণ অন্য আয়োজনগুলোও এবার পরিহার করা হয়েছে। জনসমাগম এড়াতে ভক্তদের প্রসাদ দেয়াও তাই বন্ধ ছিল শুক্রবারও। শনিবার (২৪ অক্টোবর) মহাষ্টমী পূজায় রয়েছে সন্ধিপূজা। আজ কুমারী পূজাও অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বিহিত পূজার মাধ্যমে হবে মহানবমী পূজা। আর সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে দর্পণ বিসর্জনের পর প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন