মহাজ্ঞানী অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান বাংলা থেকে তিব্বতে

-জাফর ওয়াজেদ :
অস্ত্র নয়, তান্ত্রিক ভীতি নয়, কেবল প্রেম ও মানবমুখী ধর্মদর্শনের প্রসারে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন পরম নিষ্ঠায়, কুশলতায় ও সংকল্পবদ্ধতায়। কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের মনে আমূল পরিবর্তন আনতে বাংলা থেকে নেপাল হয়ে তিব্বতে পরিভ্রমণ করেছেন। এই সত্যকে তিনি ধারণ করতেন যে, মানুষের জীবনে দুঃখ আছে; মানুষের জন্মই তার দুঃখের কারণ। মনুষ্য জন্মগ্রহণের জন্যেই মানুষকে রোগ, জরা, অপ্রিয় বস্তু বা ব্যক্তির সংসর্গ ভোগ এবং অভীষ্টবস্তু লাভে বাধা পেয়ে দুঃখভোগ করতে হয়। মানুষের জীবনে দুঃখের কারণও আছে। এই কারণ হলো তার কামনা, বাসনা, আসঙ্গলিপ্সা, তৃষ্ণা, আসক্তি প্রভৃতি বিভিন্ন প্রবৃত্তি। দ্বিতীয় সত্য হলো দুঃখের কারণ। মানুষের কামনা, বাসনা, আসক্তি নিরোধের উপায় আছে। দুঃখ নিরোধের উপায় হলো তৃতীয় সত্য। দুঃখ নিরোধের জন্য সঠিক মার্গ বা পথ অনুসরণ করতে হবে। এই চারসত্য হলো আর্যসত্য। এই সত্যকে ধারণ করে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান মানবমুক্তির সাধনা করেছেন পুরো জীবনজুড়ে। বুদ্ধের অমৃত বাণী- ‘সমুদ্র জলের যেমন মাত্র একটিই স্বাদ, তা হলো লবণের স্বাদ, তাঁর ধর্মের একটিই লক্ষ্য- তা হলো দুঃখের হাত থেকে মানুষের মুক্তি’- ধারণ করতেন দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান। দুঃখভোগ থেকে মানুষের মুক্তিলাভের পথ নির্দেশ করে গেছেন তাই।

তিনি, অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান, জন্মেছিলেন এই বাংলায়, বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনীতে ৯৮০ খ্রীষ্টাব্দের ২৪ ফেব্রুয়ারি। পিতা বঙ্গাধিপতি কল্যাণশ্রী আর মাতা প্রভাবতী দেবী। কল্যাণশ্রীর রাজধানীর নাম ছিল বিক্রমপুর। সেই বিক্রমপুর নগরের কেন্দ্রস্থলে স্বর্ণধ্বজ বিশিষ্ট এক প্রাসাদে জন্মেছিলেন তিনি। তখন তার নামকরণ করা হয়েছিল চন্দ্রগর্ভ। বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনীই ছিল একসময় বর্তমানে বঙ্গাধিপতি কল্যাণশ্রী রাজধানীর কেন্দ্রস্থল এবং তার মেজপুত্র চন্দ্রগর্ভেরও জন্মস্থান। এখানকার এক বহুপ্রাচীন মাটির টিবির ধ্বংসাবশেষকে ‘অতীশের ভিটা’ বা ‘নাস্তিক পন্ডিতের ভিটা’ নামে অভিহিত করা হতো। দীপংকর তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘আমার দেশে রাজা এবং রাজবংশীয় লোকের বসবাস। ভূ-ইন্দ্র চন্দ্র নামে এক রাজা রাজত্ব করতেন। রাজবংশীয়দের দেহে রাজরক্ত থাকলেও তারা রাজ্য বা সিংহাসনের অধিকারী নন। আমি রাজবংশে জন্মলাভ করেছিলাম।’ চন্দ্রগর্ভ প্রথম জীবনে যখন তান্ত্রিক দীক্ষায় দীক্ষিত হন, তখন তাঁর নামকরণ হয় জ্ঞানগুহ্যবজ্র। বয়স যখন ১৯ বছর, দন্তপুরীর মহাশক্তিকাচার্য শীলরক্ষিতের কাছে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষাগ্রহণ করেন। তখন তাঁর নামকরণ করা হয় দীপংকর শ্রীজ্ঞান; সংক্ষেপে দীপংকর। তিব্বত এবং মঙ্গোলিয়ায় তিনি ‘অতীশ’ বা ‘অতীশা’ নামেও পরিচিত এখনো। বাল্য ও কৈশোরে মায়ের কাছে এবং পরবর্তীকালে বাঙালি ‘জেতারী অবধূতের’ কাছে বিভিন্ন শাস্ত্র অধ্যয়ন ও জ্ঞান লাভ করেন। এরপর বিহারের কৃষ্ণগিরি রাহুলের কাছে দীক্ষিত হন গুহ্যমন্ত্রে। সুকঠিন এই মন্ত্রে দীক্ষালাভের পর মহাজ্ঞানীরূপে স্বীকৃতি লাভ করেন।

একত্রিশ বছর বয়সে ১৩১১ খ্রীষ্টাব্দে সুবর্ণদ্বীপে আচার্য ধর্মকীর্তির কাছে বৌদ্ধশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। দীর্ঘ বারোবছর শাস্ত্রচর্চায় গভীর পান্ডিত্য অর্জন করেন তিনি। জাগতিক মোহ, হিংসা-দ্বেষ প্রভৃতির উর্ধে এক আধ্যাত্মিক জগতে স্থান করে নেন নিজেকে। বয়স যখন ৪৪ বছর, তিনি ফিরে আসেন নিজ জন্মভূমি বঙ্গদেশে।
যখন দেশে ফিরে আসেন তখন বঙ্গদেশের রাজা ছিলেন মহীপাল। দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান দেশে ফিরে সোমপুরী বিহারে অধ্যাপনা শুরু করেন। তাঁর শিক্ষার গুণ প্রচারিত হলে রাজা মহীপাল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মহীপালের অনুরোধে তিনি বিক্রমশীলা মহাবিহারের অধ্যক্ষের পদে যোগ দেন। বৌদ্ধশাস্ত্রের অধ্যাপনা করে অসাধারণ খ্যাতি অর্জন করেন। দেশে বিদেশে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। ক্রমে ক্রমে তাঁর অনুসারী শিষ্যের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তার খ্যাতি শুনে তিব্বতের রাজা হ্লা-লামা প্রভূত উপহার সামগ্রী নিয়ে এসে তার রাজ্যে ধর্মপ্রচারের জন্য অনুরোধ জানান। কিন্তু সে অনুরোধ সে সময়ে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি মহাবিহারের শিক্ষা-দীক্ষায় বিঘ্ন ঘটার আশংকায়। তিব্বত রাজার মৃত্যুর পর তার স্থলাভিষিক্ত রাজা চ্যান-চাব জ্ঞান প্রভ পুনরায় শ্রীজ্ঞানকে তার দেশে ধর্ম প্রচারের জন্য আমন্ত্রণ জানান। এবার তিনি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন বিক্রমশীল বিহার ছেড়ে ১০৪১ সালে হিমালয়ের দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে তিব্বতে পৌঁছেন।

অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের জীবনীকার শরৎচন্দ্র দাস উল্লেখ করেছেন, ‘ষাট বছর বয়সে অতীশ যখন তিব্বতের পথে তখন তাঁর সৌম্য শান্ত চেহারা, সুমিষ্ট কন্ঠস্বরে সংস্কৃতমন্ত্র উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে মাতৃভাষা বাংলায় কথোপকথনও বাদ যায় নি।’ তিব্বত যাবার পথে নেপালের রাজা অনন্তকীর্তি তাঁকে সংর্বধনা প্রদান করেন। রাজার পতœী পথপ্রভা এ সময় শ্রীজ্ঞানের কাছে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হন। নেপালে অবস্থানকালে বিশাল সম্বর্ধনা পেয়েছিলেন, যা ছিল সে সময়কালের জন্য অভাবিত। সেই সংবর্ধনার চিত্রপট এখনো তিব্বতের বিভিন্ন মঠগাত্রে উৎকীর্ণ রয়েছে। শ্রীজ্ঞানের আগেও কয়েকশতক ধরে অনেক পন্ডিত ভারতবর্ষ থেকে তিব্বত গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানকার ধর্মীয় ইতিহাসে শ্রীজ্ঞানের সম্মাননা সবার উর্ধ্বে। তিব্বতে পেয়েছিলেন রাজকীয় সম্মান। তিব্বতে দীপংকর শ্রীজ্ঞান দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা বিজ্ঞান, কারিগরিবিদ্যা এবং বৌদ্ধধর্ম ও শাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থাদি রচনা করেন, যার ভাষা ছিল তিব্বতীয়। তিব্বতীরা এ জন্য শ্রীজ্ঞানের কাছে অসীম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাঁকে ‘অতীশ’ উপাধিতে ভূষিত করে। পরবর্তীকালে তাই তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত লাভ করেন ‘অতীশ দীপঙ্কর’ নামে। এই সময় ছিল শ্রীজ্ঞানের জন্য সুবর্ণ সময়।

তিব্বতে থাকাকালে তিনি বহু প্রাচীন সংস্কৃত পুঁথি আবিষ্কার করেন এবং স্বহস্তে সেগুলোর প্রতিলিপি তৈরি করে বঙ্গদেশে প্রেরণ করেন পাঠ ও সংরক্ষণের জন্য।এছাড়া অতীশ দীপংকর নিজেও বোধিপাঠ, বোধিপথ প্রদীপ, রতনকরোন্তাদ ঘাত,প্রদীপপঞ্জিকা,প্রজ্ঞাহৃদয়ব্যাখ্যা,সত্যদ্বয়াবতার,একসমৃত্যুপদেশ,মধ্যমকোপদেশ,সংগ্রহগর্ভ, সরন্যামনফেসনা, কর্মবিভঙ্গ, চর্যাসংগ্রহ প্রদীপ, দশকূল কর্মপথ, গুরুজিয়াকর্ম, হোমবিধি, বজ্রাসন, বজ্রগীতিসহ ১০৮টি গ্রন্থ এবং বিমল রত্ন লেখনাম শীর্ষক একটি সারগর্ভপত্র রচনা করেন। পত্রটি লিখেছিলেন তিনি গৌড় সম্রাট নয়পালের উদ্দেশ্যে। ‘চর্যাসংগ্রহ প্রদীপ’ নামক গ্রন্থে শ্রীজ্ঞানের বেশকিছু ‘সংকীর্তন পদ’ পাওয়া গেছে। কিন্তু তার মূল যে সংস্কৃত রচনাবলী সেগুলি আর পাওয়া যায় নি। তবে তিব্বতী ভাষায় মূল গ্রন্থের অনুবাদগুলো টিকে আছে।

তিব্বতীয় সমাজের প্রায় প্রত্যেক শ্রেণী তার ধর্মদেশনায় প্রভাবিত হয়েছেন। গৃহীকে তিনি ত্রিশরণ মন্ত্রের অর্থাৎ ‘বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি, ধর্মং শরণং গচ্ছামি, সঙ্ঘং শরণং গচ্ছামি’ জ্ঞান দিয়েছেন। ভিক্ষুকে দিয়েছেন শীল রক্ষার উপদেশ। মানুষকে শিখিয়েছেন সর্বজীবে দয়া ও আর্তের সেবার কথা। অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করে তিব্বতি ভাষা ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। বাহুবল বা তান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নয়, বুদ্ধের প্রেম-করুণা এবং মৈত্রীর মানবমুখী দর্শনের উদাত্ত আহবানে তিব্বতের কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানব ও ধর্মজীবনে আমূল পরিবর্তন সাধন করেছিলেন। সে কারণেই তিব্বতের মানুষ তাকে মহাপ্রভুর মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করে সম্মানিত করেছেন। তিব্বতেই তিনি শেষ জীবন কাটালেন গ্রন্থ রচনা ও ধর্মসাধনায়।

অতীশের শিক্ষাজীবন তিনটি স্তর অতিক্রম করেছিল। প্রথমে তান্ত্রিক দীক্ষা গ্রহণ, দ্বিতীয় বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ এবং হীনযান ও মহাযান উভয়শাস্ত্র অধ্যয়ন আর তৃতীয়ত সুবর্ণদ্বীপে ধর্মকীর্তির কাছে শিক্ষা লাভ। অতীশের তান্ত্রিক শিক্ষা কোথায় শুরু সে সম্পর্কেও তাঁর জীবনীকারদের নানা মত। কারো মতে, সনাতন ধর্মাবলম্বী তাঁর পিতা কল্যাণশ্রীর কাছেই তান্ত্রিক দীক্ষা। কারো ভাষ্য, অল্পবয়সেই অতীশ তাঁর ইস্টদেবী আর্যতারার দর্শন লাভ করেন এবং সেই প্রভাবে ধন-দৌলত, রাজত্বের প্রতি তাঁর বিরাগ জন্মায়। তিনি দেশান্তরী হয়ে কৃষ্ণগিরির যোগী রাহুলগুহ্যবজ্রের কাছে তান্ত্রিক দীক্ষা নিয়ে জ্ঞানগুহ্যবজ্র নাম ধারণও করেন। এই কৃষ্ণগিরির অবস্থান নিয়েও পন্ডিতরা একমত নয়। কারো মতে, বর্তমান মুম্বাইয়ের কাছে কানহারি পর্বত। কারো ভাষ্য, রাজগৃহের বিখ্যাত পর্বত। কারো ভাষ্য, রাজগৃহের বিখ্যাত ৭টি পর্বতের অন্যতম কালশিলাই কৃষ্ণগিরি। মতভেদ যা-ই হোক, তান্ত্রিক দীক্ষার পর তিনি সাত বছর তন্ত্রগুরু অবধূতিপার কাছে তন্ত্রচর্চার পর যান উড্ডিয়ানে। এই উড্ডিয়ানের ভৌগলিক অবস্থান নিয়েও নানা মত। কারো ভাষ্য, বর্তমান ওড়িষ্যায়। কারো মতে, উত্তর-পশ্চিম ভারতে। আবার কোনো কোনো পন্ডিত বলেছেন, উড্ডিয়ানের বর্তমান অবস্থান স্বাধীন বাংলাদেশে। দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান এই উড্ডিয়ানে তিন বছর অবস্থান করেন। এখানে ডাকিনীদের সঙ্গে গণচক্রে যোগদান, অসংখ্য গুহ্যবজ্রগীতি শ্রবণ এবং কঠোর মানসিক অনুশীলনের সাহায্যে নিজেই তন্ত্রজ্ঞানকে এক উচ্চতম পর্যায়ে নিয়ে যান। তান্ত্রিক দীক্ষার পর নয়া নামকরণ হয়েছিল জ্ঞানগুহ্য বজ্র। আর বৌদ্ধ ভিক্ষুর দীক্ষা গ্রহণের পর দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান নামে পরিচিত হন। আর পরবর্তীকালে অতীশ দীপংকর নামেই পরিচিত হন বিশ্বভুবনে।

প্রশ্ন ওঠে, তন্ত্রবিদ্যায় গভীর পারদর্শী হবার পর দীপঙ্কর কেন বুদ্ধের শরণ নিয়ে প্রব্রজ্যা গ্রহণ করলেন?- তবে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানার সুযোগ সীমিত হলেও এ বিষয়ে তিব্বতী একটি কাহিনী প্রচলিত আছে। একদিন গভীর রাতে দীপঙ্কর স্বপ্ন দেখলেন যে, স্বয়ং শাক্যমুনি অর্থাৎ বুদ্ধ শিষ্যপরিবৃত হয়ে তাঁকে বলছেন যে, কেন দীপঙ্করের এই জীবনের প্রতি মোহ বা আসক্তি, কেনই বা সে এতোদিন বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেনি। অর্থাৎ এই তিব্বতি কাহিনী অনুসারে স্বয়ং বুদ্ধের স্বপ্নিল প্রেরণাতেই দীপঙ্কর বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন। তখন তাঁর বয়স ২৯ বছর। দু’বছর পর সুবর্ণদ্বীপে জ্ঞানলাভের জন্য আচার্য ধর্মকীর্তির কাছে দীক্ষা নেন। ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতে, সুমাত্রা, যবদ্বীপ প্রভৃতি পূর্বাঞ্চলীয় দ্বীপপুঞ্জের সাধারণ নাম ছিল সুবর্ণদ্বীপ। আর সুবর্ণদ্বীপের শ্রেষ্ঠ বৌদ্ধ পন্ডিত ছিলেন আচার্য ধর্মকীর্তি। ছিলেন তিনি দীর্ঘায়ু। শতাধিক বছরের জীবন ছিল। অতীশ দীপঙ্কর ছাড়াও তাঁর শিষ্যদের মধ্যে কমলরক্ষিত, শান্তি, জ্ঞানশ্রী, মিত্র এবং রত্মকীর্তির নাম বৌদ্ধ জগতে বিশেষ উল্লেখযোগ্য। সুবর্ণদ্বীপ থেকে ফিরে এসে দীর্ঘ পনের বছর অতীশ দীপঙ্কর ভারতবর্ষের বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে অধ্যাপনা করেছেন। বিহারকেন্দ্রিক ছিল তাঁর কর্মকান্ডের মূলকেন্দ্র। সর্বশেষ বিক্রমশীলা মহাবিহারে অধ্যক্ষ থাকাকালে তিনি বর্হিবিশ্বে তথা নেপাল হয়ে তিব্বত যান। উদ্দেশ্য বুদ্ধের বাণী ও দর্শন প্রচার।

বৌদ্ধধর্মের নামে তিব্বত এক বিকৃত তান্ত্রিক মতবাদ প্রাধান্য পায়। তিব্বতের ধর্মরাজ যেসেওদ এতে খুবই বিচলিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তান্ত্রিকতার মোহজাল থেকে বৌদ্ধধর্মকে উদ্ধার করে তার সঠিক প্রয়োগ ও প্রচারের জন্য তিনি সচেষ্ট হলেন। প্রখ্যাত বৌদ্ধপন্ডিত ভারতবর্ষের বঙ্গদেশের বিক্রমশীল বৌদ্ধবিহারের আচার্য অতীশ দীপঙ্করকেই তাঁর এ ব্যাপারে যোগ্য ব্যক্তি বলে মনে হলো। সেকালের প্রথানুযায়ী ভারতবর্ষ থেকে যোগ্যপন্ডিত নেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতো প্রচুর স্বর্ণের। সেই স্বর্ণ, যেখানে সেই পন্ডিত কর্মরত সেখানে দক্ষিণাস্বরূপ দিতে হতো। সে উদ্দেশ্যে যেসেওদ তিব্বতের সীমান্তে স্বর্ণ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিধর্মী গারলোগদের হাতে বন্দি হলেন। গারলোগরা যেসেওদের শরীরের সমান ওজনের সোনা মুক্তিপণ দাবী করল। একথা শুনে যেসেত্তদের ভাইপো জনসবুওদ স্বর্ণসংগ্রহ করে পিতৃব্যের প্রাণরক্ষা করতে সচেষ্ট হলেন। কারাগার থেকে এ সংবাদ পেয়ে যেসেওদ তার অন্তিম ইচ্ছার কথা ভাইপো জনসুবওদকে জানালেন যে, বিধর্মীদের মুক্তিপণ দিয়ে তাঁর জীবন রক্ষার বদলে সেই স্বর্ণ দিয়ে যেন ভারতবর্ষ থেকে বৌদ্ধ পন্ডিত আচার্য অতীশ দীপঙ্করকে তিব্বতে আনবার ব্যবস্থা করা হয়। নিজের জীবনের চেয়ে স্বদেশ তিব্বতে প্রকৃত বৌদ্ধধর্ম চর্চার প্রয়োজন রাজভিক্ষু সর্বত্যাগী যেসেওদের কাছে অনেক বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল। তিব্বতে যেসেওদ যেসব বৌদ্ধবিহার নির্মাণ করেছিলেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল শাংশুংথোলিং বিহার। অতীশ দীপঙ্কর তিব্বতে এসে প্রথমে এ বিহারেই পদার্পণ করেছিলেন। এখানেই তিনি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ ‘বোধিপথ প্রদীপ’ রচনা করেছিলেন। সে কারণেও তিব্বতের ধর্মীয় ইতিহাসে এই শাংশুংথোলিং বিহারের এক বিশেষ মর্যাদা।

ভিক্ষুরাজ যেসেওদের অন্তিম ইচ্ছানুসারে তাঁর ভাইপো জনসুওদ প্রচুর স্বর্ণ সংগ্রহ করে নাগোস সুলঠিম জলবাই এবং জ্যাতোন চোনডুই সেংগে প্রমুখ তরুণ ভিক্ষুদের অনুরোধ করেন, আচার্য দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানকে একান্তভাবে অনুরোধ করে বৌদ্ধধর্ম রক্ষার জন্য তিব্বতে নিয়ে আসার জন্য।তিব্বতি ইতিহাসবিদ সুম্পা লিখেছেন, উনষাট বছর বয়সে দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান দু’জন তিব্বতি বৌদ্ধ ভিক্ষুকে নিয়ে নেপালে পৌঁছেছিলেন। ভারতবর্ষ থেকে ১০৪০ খ্রীষ্টাব্দে যাত্রা করেন। ১০৪১ খ্রীষ্টাব্দ নেপালে কাটিয়ে ১০৪২ খ্রীষ্টাব্দে তিব্বতে পৌঁছেন। তাঁর তিব্বতি শিষ্যদের মধ্যে নাগোপা সুলঠিম জলবাই ছিলেন সবথেকে উল্লেখযোগ্য। তিনি প্রায় ছায়ার মতো তাঁর গুরু অতীশকে সঙ্গ দিয়েছেন তিব্বতের পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে পরিচিত হতে সাহায্য করার জন্য। প্রশ্ন আসে স্বাভাবিকভাবেই যে, উনষাট বছর বয়সে তিব্বতের বিপদসংকুল পথে দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান যাত্রা করেছিলেন শুধু সে কেবলি তিব্বতিদের অনুরোধ? কিন্তু তা হবার কথা নয়। দীপঙ্করের তিব্বত যাত্রার সম্মতির যে ঐতিহাসিক কারণগুলো জানা যায়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, তিব্বতের মানুষদের প্রতি তাঁর গভীর করুণা, বৌদ্ধধর্ম প্রচারের তাগিদ এবং সর্বোপরি রাজভিক্ষু যেসেওদের বৌদ্ধধর্মের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা এবং ধর্মের জন্য তাঁর আত্মবলিদানের ঘটনায় গভীর মর্মাহত হওয়া। দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান জানতেন, ওই বয়সে অজ্ঞাত দেশের দুর্গম পথে যাত্রা তাঁর স্বাস্থ্যহানি এমনকি জীবনহানিও ঘটাতে পারে। তথাপি তিনি নিজের জীবনের থেকেও ধর্মের প্রচার ও প্রসারকেই বড় করে দেখেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ যাঁকে বলেছিলেন, ‘বাঙালি অতীশ লঙ্ঘিল গিরিতুষার ভয়ঙ্কর/ জ্বালিল জ্ঞানের দীপ তিব্বতে বাঙালি দীপঙ্কর।’

ইতিহাসবিদরা উল্লেখ করেছেন, দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান ভারতবর্ষ ছেড়ে চলে যাবার আগে প্রথমে গিয়েছিলেন বুদ্ধগয়া, যেখানে মহামানব বুদ্ধ বোধিলাভ করেছিলেন। তারপর সেখানকার অন্যান্য বৌদ্ধ তীর্থস্থান পরিদর্শন করার পর তিনি গিয়েছিলেন নেপালের স্বয়ম্ভূচৈত্যে। তাঁর যাত্রাপথের সঙ্গীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন পন্ডিত ভূমিগর্ভ, নাগোসা, জ্যাতোন, ভূমিসঙ্ঘ এবং বীর্যচন্দ্র প্রমুখ। দীপঙ্কর তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে যখন নেপালের স্বয়ম্ভূচৈত্যে পৌঁছেলেন, সেখানকার রাজা তাঁদের বিপুলভাবে সম্বর্ধনা জানান। স্বয়ম্ভূচৈত্য থেকে দীপঙ্কর যাত্রা করলেন পাল্পারের পথে। তাঁর সহযাত্রী এবং প্রথম তিব্বতীয় শিষ্য জ্যাতোন এ সময়ে প্রবল অসুস্থ হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হন। প্রিয়শিষ্য জ্যাতোনের মৃত্যু অতীশকে বিষন্ন করে তোলে। এছাড়াও নেপালবাস তাঁর কাছে স্মরণীয় আরও তিনটি কারণে।

নেপাল অবস্থানকালে দীপঙ্কর বৌদ্ধদর্শন ও ধর্মের প্রসারে ধর্মসভায় অংশ নেন। নেপাল থেকে মগধের রাজা নয়পালকে পশ্চিম দেশীয় রাজা কর্ণরাজের বিবাদের অবসান ঘটানোর জন্য বিমলরত্ন লেখনাম শীর্ষক পত্র পাঠান। নেপাল থেকে ‘চর্যাসংগ্রহ’ রচনা সংগ্রহ করেন। তৃতীয় নেপাল রাজা অনকীর্তি দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের প্রেরণায় থম্ বৌদ্ধবিহার নির্মাণ করেন। নেপাল থেকে মানস সরোবর হয়ে অতীশ তিব্বতের থোলিং বিহারে যান। তখন বয়স তাঁর ষাট বছর। তথাপি দুর্গম পথের কষ্ট তাঁর দেহে কোনও রেখাপাত করেনি। প্রশান্ত মুখশ্রী এবং সুগঠিত তনু তাঁকে মহিমামন্ডিত করেছিল।

তিব্বতি ইতিহাসবিদ গাইলোচবারের তথ্যানুযায়ী, অতীশ ১০৪২ খ্রীস্টাব্দ থেকে ১০৫৪ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত তিব্বতে অবস্থান করেন। এর মধ্যে প্রথম তিন বছর ছিলেন পশ্চিম তিব্বতে। মূলতঃ পশ্চিম তিব্বতের রাজাদের আগ্রহ এবং অনুরোধেই অতীশের তিব্বত আগমন। ওই সময়ের মধ্যেই তিনি বিপুল পরিশ্রম করে তিব্বতে মহাযান মতবাদের প্রবর্তন ঘটান। এর উপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালে ওই দেশে তাঁর সাফল্যের সৌধ গড়ে ওঠে। পশ্চিম তিব্বতে ওই তিনবছর অবস্থানকালে তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর অন্যতম ছিল রাজা জনসুবওদের একান্ত আনুগত্য, তিব্বতের শ্রেষ্ঠ পন্ডিত রিনসেন সংপো’র অতীশের শিষ্যত্ব গ্রহণ, অতীশের গ্রন্থ রচনা এবং তিব্বতে তাঁর প্রধান শিষ্য ব্রোম তোন্পার সঙ্গে সাক্ষাৎ। তিব্বতে অতীশ আরেকটি মহৎ কাজ করেছিলেন। তিব্বতীয়রা তাঁকে যে বিপুল পরিমাণ ধনরতন ও অর্থ প্রদান করেছিল, তার একাংশ তিনি দান করেছিলেন তিব্বতেরই একটি নদীতে বাঁধ নির্মাণের কাজে। যার ফলে হাজার হাজার তিব্বতি উপকৃত হয়েছিল। এসব কারণে তিনি তিব্বতে ‘বুদ্ধের অবতার’ রূপে স্মরিত হয়ে আসছেন আজো।

তিব্বতীদের কাছে বুদ্ধের অবতার হলেও ভারতবর্ষের বঙ্গে তাঁর প্রধান কর্মস্থল বিক্রমশীল বিহারের কথা কখনো ভুলে যান নি। তিব্বতে ধর্মদেশনার মাধ্যমে শিষ্যদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ধনরত্ন দক্ষিণা পেয়েছিলেন। তাঁর সেই সঞ্চয় থেকে তিন তিনবার তিব্বতি শিষ্যদের মাধ্যমে বিক্রমশীল বিহারের ভিক্ষু সংঘের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। লাসা, ইয়েরপা, লন্পা প্রভৃতি তিব্বতের প্রায় সমস্ত স্থানেই অতীশ বিশদভাবে ধম্মোপদেশ দিয়েছেন। অবশেষে যখন তিনি পূর্ব তিব্বতে নেথাং- এ, তখন শরীর তাঁর দ্রæত অবনতির দিকে। সে ধাক্কা আর সামলাতে পারেন নি। ১০৫৪ খ্রীষ্টাব্দের ১৮ সেপ্টেম্বর তিব্বতে সতের বছর অবস্থান শেষ হলো। বাহাত্তর বছর বয়সে মাতৃভূমি বঙ্গদেশের বিক্রমপুর থেকে সহস্র সহস্র যোজন দূরে মহাজ্ঞানী অতীশ দীপঙ্কর দেহত্যাগ করেন বা মহানির্বাণ লাভ করেন। তিব্বতের রাজধানী লাসার কাছে তাঁর সমাধিস্থলে এখনো পূর্ণ্যর্থীদের ভীড় জমে। ১৯৮১ সালে তাঁর দেহভষ্ম রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকায় আনা হয়।

অতীশ দীপঙ্করের আবির্ভাব হয়েছিল ভারতে। তিব্বতের ধর্ম ও দর্শনের ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক্ষণে। সে সময়ের তিব্বতের সমস্ত বিষয় ও সমস্ত শ্রেণী তাঁর ধর্মদেশনায় প্রভাবিত হয়েছে। গৃহীকে তিনি দিয়েছেন ত্রিশরণ মন্ত্রের উপদেশ; ভিক্ষুকে শীল, সমাধি, প্রজ্ঞার আর সাধারণ মানুষকে জীবে দয়া ও আর্তে সেবার। সে কারণেই তিব্বতে তিনি প্রতিষ্ঠিত মহাপ্রভুর মর্যাদায়।

গৌতম বুদ্ধের ধর্ম ও দর্শন প্রচারে ও প্রসারে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান পুরো জীবনকে নিবেদিত করেছিলেন। জ্ঞান, শিক্ষা ও কর্মের প্রবাহে তিনি মানুষের মধ্যে এক নতুন দর্শনের জগৎ উম্মোচন করেছিলেন। সহস্র বছর আগে এই বাংলায় জন্মেছিলেন তিনি। এই বঙ্গের শেষ খ্যাতিমান বৌদ্ধ আচার্য বিস্মৃত প্রায়, তাঁর জীবন ও দর্শন নিয়ে গবেষণা আর হয় না। তবু তিনি সহস্র বছর পেরিয়ে আজো দেদীপ্যমান। এক সময় বাংলা ছিল জ্ঞানে গরিমায়, শিক্ষাদীক্ষায় অগ্রসর। এ দেশের পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, সোমপুর বিহার- এ শিক্ষা গ্রহণ করে অতীশ দীপঙ্কর তাঁর জ্ঞানের মশাল নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন দেশ হতে দেশে। সভ্যতার প্রসারে রয়েছে এর ঐতিহাসিক অবদান। সে কথার প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন কবি নজরুল- ‘ও ভাই সন্ন্যাসিনী সকল দেশে / জ্বাললো আলো ভালোবেসে।’

অতীশ দীপঙ্কর এসেছেন জীবনানন্দের কবিতায়। শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থের ‘মানুষের মৃত্যু হ’লে’ কবিতায়- ‘মানুষের মৃত্যু হলে তবু মানব / থেকে যায়, অতীতের থেকে উঠে আজকের মানুষের কাছে/ প্রথমত চেতনার পরিমাপ নিতে আসে। / আজকের আগে যেই জীবনের ভিড় জমেছিলো/ তা’রা ম’রে গেছে;/ প্রতিটি মানুষ তার নিজের স্বতন্দ্র সত্তা নিয়ে/ অন্ধকারে হারায়েছে;/ তবু তা’রা আজকের আলোর ভিতরে/ সঞ্চারিত হয়ে ওঠে আজকের মানুষের সুরে/ যখন প্রেমের কথা বলে/ অথবা জ্ঞানের কথা বলে-/ অনন্ত যাত্রার কথা মনে হয় সে সময়/ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানে;/ চলেছে- চলেছে-/ একদিন বুদ্ধকে সে চেয়েছিলো ব’লে ভেবেছিলো।/ একদিন ধূসর পাতায় যেই জ্ঞান থাকে- তাকে।” এই একই কবিতায় শ্রীজ্ঞান প্রসঙ্গ আবার এসেছে- “সূর্য যদি কেবলি দিনের জন্ম দিয়ে যায়, /রাত্রি যদি শুধু নক্ষত্রের; / মানুষ কেবলি যদি সমাজের জন্ম দেয়,/ সমাজ অস্পষ্ট বিপ্লবের,/বিপ্লব নির্মম আবেশের,/ তা’হলে শ্রীজ্ঞান কিছু চেয়েছিলো?’

জীবনানন্দ দাশের অগ্রন্থিত ‘নবপ্রস্থান’ কবিতায় দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান এসেছেন মানবিকতায়। লিখেছেন কবি- ‘পৃথিবীর ভয়াবহ রাষ্ট্রকূট অন্ধকার অন্তহীন বিদ্যুৎ-বৃষ্টির/ জ্যোতির্ময় ব্রেজিল পাথরে আমি নবীন ভূগোল/ এরকম মানবীয় হ’য়ে যেতে দেখি’- ইতিহাস/ মানবিক হয়ে ওঠে- যাযাবর শ্রীজ্ঞানের মতো/ এখানে অকুতোভয় উদাত্ত আবেগে/ সঞ্চারিত হ’য়ে যাওয়া অর্বাচীন জেনে নিয়ে তবু/ নতুন প্রাণের নব উদ্দেশের অভিসারী হ’তে/ চায় না কি- চায় না কি জনসাধারণ পৃথিবীর/’।

-লেখক : একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও মহাপরিচালক প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।