মাঠে গেল বাজার

শরীফুল ইসলাম :
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে চাঁদপুর শহরের পালবাজার, বিপণীবাগ বাজার, ওয়্যারলেছ বাজার, বাবুরহাট বাজার এবং নতুনবাজারের কাঁচামালের বাজার বুধবার থেকে সংলগ্ন বড় মাঠে খোলা স্থানে চালু কয়েছে।

বাজারগুলো যথাক্রমে ঈদগাহ ময়দান, চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠ, চাঁদপুর সেতুর দুই পাশের সড়ক, বাবুরহাট কলেজ মাঠ এবং নতুনবাজার বড় মাঠে পণ্য সামগ্রী বেচাকেনা শুরু করেছে।

অবশেষে সচেতন মহলের দাবির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন ও জেলা মার্কেটিং অফিসের সিদ্ধান্তে চাঁদপুরে খোলা মাঠেই বসেছে মাছ-মাংসসহ কাঁচা বাজার। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে বুধবার থেকে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ব্যবস্থাপনায় এবং পৌরসভার সহযোগিতায় শহরের এই ৫টি বাজার পাশ্ববর্তী খোলা মাঠে স্থানান্তরিত করা হয়।

এরই মধ্যে চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট বাজার পাশ্ববর্তী বাবুরহাট কলেজ মাঠে, ওয়্যারলেছ বাজার পাশ্ববর্তী ওয়্যারলেছ-গাছতলা ব্রিজ রাস্তার দুই পাশে, বিপণীবাগ বাজার পাশ্ববর্তী চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে, পালবাজার পাশ্ববর্তী পৌর ঈদগাহ মাঠে এবং নতুনবাজারের কাঁচামাল, মাছ ও মাংসের দোকানগুলো যথাক্রমে রাস্তার দুই পাশে (পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রেখে) বসেছে।

বুধবার বিকেলে শহরের চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের একাংশ জুড়ে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রেখে কাঁচামাল, মাছ ও মাংসের দোকানগুলো বসানো হয়েছে।

সেখানে ক্রেতারা বলেন, এতদিন আমরা বাজারে কেনাকাটা করেছি। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয় থাকলেও বাধ্য হয়ে আমরা মানুষের ভিড় ঠেলে বাজার করেছি। অবশেষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে এমন খোলা মাঠে বাজার স্থানান্তরিত করায় আমরা খুশি।

পালবাজারের বেশ কয়েকজন তরকারি ও মাছ বিক্রেতার সাথে কথা হলে তারা বলেন, প্রশাসন আমাদের ভালোর জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এখানে খোলা মাঠে দোকান করতে পেরে আমরাও খুশি।

দোকানীরা আরো বলেন, আজ প্রথম দিন বলে কাস্টমার কম হওয়াতে বেচা-বিক্রি একটু কম হয়েছে। তবে প্রচার বাড়লে ক্রেতারা বাড়বে। ব্যবসায়ীরা এই আয়োজনের জন্যে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভাকে ধন্যবাদ জানান।
প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঔষধের দোকান ছাড়া সকল প্রকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে মাছের বাজার ও কাঁচাবাজারগুলোতে এই নির্দেশনা কিছুতেই বাস্তবায়ন করা যাচ্ছিল না। এসব হাট-বাজারগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটছে। ফলে এই স্থান থেকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সুযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে।

পরিবর্তে জেলাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে চাঁদপুর সদর আসনের এমপি ও শিক্ষামন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পৌরসভার মেয়র এবং বাজার ব্যাবসায়ীদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে শহরের প্রধান ৫টি হাট-বাজার পার্শ্ববর্তী মাঠে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সংক্রান্ত বিশেষ সভা অনু্ষ্িঠত হয়।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এক সভায় ব্যবসায়ীদের নিয়ে বাজারগুলো মাঠে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই আলোকে বিপণীবাগ বাজার চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে, বাবুরহাট বাজার বাবুরহাট কলেজ মাঠে, ওয়ারলেছ বাজার চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কের দুই পাশে, পালবাজার ঈদগা ময়দান এবং নতুনবাজার বড় মাঠে খোলা স্থানে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন