মোহনপুরের নাছিরাকান্দি মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলন বাধা দেয়ায় গুলিবর্ষণ : আহত ১০

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের নাছিরাকান্দি আশ্রায়ন প্রকল্প সংলগ্ন তীরবর্তী মেঘনা নদীতে কাজী মিজান ও কাজি মতিন কর্তৃক ৫০-৬০টি ড্রেজার ও বলগেট দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। নিজেদের ভিটেমাটি রক্ষার জন্য বিক্ষুদ্ধ জনতা বালু কাটার প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে তাদের উপর কাজী মতিনের নেতৃত্বে তার বাহিনী নাছিরাকান্দি আশ্রায়ন প্রকল্প সংলগ্ন এলালকার নীরিহ ভুক্তভোগী বিক্ষুদ্ধ জনতার উপর গুলিবর্ষণ, ককটেল নিক্ষেপসহ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীদের গুলিবর্ষণে ১০জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মারাত্মক আহত নাছিরাকান্দি গ্রামের জহিরুল হকের ছেলে মোঃ সজিব (২৮), জুলহাস বেপারীর ছেলে মোঃ জীবন (২৫), শামছু বেপারীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৩), ফারুক মল্লিকের ছেলে পিয়ার হোসেন (২২) ও দশানী এলাকার আবু নাসের সরকারের ছেলে মোঃ আমজাদ (৩৭) কে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল (সদর) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকী কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে আহতদের স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়। পরে এলাকাবাসীর প্রতিরোধে মুখে কাজী মতিন ও তার লোকজন পিছু হটতে বাধ্য হয়।

মোহনপুর ইউনিয়নের নাছিরাকান্দি গ্রামের মোঃ সজিব (৩০) ও মোঃ শাহনেওয়াজ (৬৫) বলেন, শনিবার সকাল ১০টার সময় মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুরের কাজী মিজান ও কাজী মতিন আমাদের মোহনপুর ইউনিয়নের নাছিরাকান্দি আশ্রায়ন প্রকল্প সংলগ্ন তীরবর্তী মেঘনা নদীতে ৫০-৬০টি ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে আমাদের ভিটেমাটি ঘেঁষে বালি কাটতে থাকে। এ সময় আমরা এলাকাবাসী তাদেরকে বাধা দিলে গেলে মোহনপুরের কাজী মিজান ও কাজী মতিন ৪-৫ ট স্প্রিডবোটযোগে অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে আমাদের উপর উপর্যপুরি গুলিবর্ষণ ও ককটেল নিক্ষেপ করে। এতে করে আমাদের এলাকার ১০-১৫জন আহত হয়।

তারা আরও বলেন, এমনিতেই আমরা নদী ভাঙনের শিকার। পদ্মা-মেঘনার সাথে জীবনযুদ্ধে বেঁচে থাকতে হয়। তারপর এভাবে আমাদের ভিটেমাটি ঘেঁষে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল নদীগর্ভে বিলিন হবে। আমাদের এখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রায়ন প্রকল্প রয়েছে। এখানে বালু কাটলে এ আশ্রায়ন প্রকল্পটি নদীগর্ভে বিলিন হবে। আমরা নদী ভাংতির শিকার। আমাদের জন্মভ‚মি নাছিরাকান্দি এলাকায় যাতে করে বালু কাটতে না পারে সেজন্য তারা সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।

নাছিরাকান্দি চরের বিক্ষুদ্ধ আরো কয়েকজন জানান, এই চরে আমরা চাষাবাদ করে জীবনযাপন করি। আমরা কৃষি কাজ করে কোন রকম বেঁচে আছি। এভাবে বালি কাটতে থাকলে আমাদের চর নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। আমরা জীবন দিয়ে হলেও আমাদের বাপ-দাদার ভিটে রক্ষা করবো। কোন অবস্থায়ই বালি কাটতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে জীবন দেব তবু আমাদের এখানে নদীতে বালি কাটতে দেব না।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।