হাইমচরের জনপ্রতিনিধিদের সাথে প্রতারণা : কক্সবাজার ও বান্দরবন থেকে আটক ২

মেঃ খুরশিদ আলম :
মুজিববর্ষ উপলক্ষে রেড ক্রিসেন্ট হতে দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে চাল, ডালসহ অনুদান দেয়ার কথা বলে হাইমচর উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ নেতার কাছ থেকে প্রতারণা করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়া প্রতারক চক্রের ২জনকে কক্সবাজার ও বান্দরবন হতে আটক করেছে হাইমচর থানা পুলিশ।

হাইমচর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান (সাবেক) এস এম কবিরের হাইমচর থানায় দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মার্চ ২০২০ বিকেলে হাইমচর উপজেলা চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারীর মোবাইলে রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তা পরিচয়ে ০১৭৪৩৭৭৩০১৪ নম্বর হতে ফোন দেওয়া হয়।

ফোনে বলা হয়- মুজিববর্ষ উপলক্ষে দুস্থ মানুষজনকে সহায়তা করা হবে। আপনি ৫জনের নাম-ঠিকানা দিয়ে রেড ক্রিসেন্ট জিএম সাহেবের সাথে যোগাযোগ করেন। আমি উক্ত নাম্বারে যোগাযোগ করলে জিএম পরিচয়ে ব্যক্তি জানান, ৫টি নাম নয়, ৪৪টি নাম দেয়ার আশ্বাস দেন এবং প্রত্যেককে নগদ ৪২০০ টাকা, ৩০ কেজি চাল, ৫ কেজি ডাল, ৫ কেজি তৈল ও ১টি কম্বল দেয়ার জন্য জনপ্রতি ৭শ’ টাকা করে ৩০৮০০ ( ত্রিশ হাজার আটশত) টাকা দিতে হবে।

জনগনের কথা চিন্তা করে ০১৪০৩৬২০৪০৪ ও ০১৯৬৪২৯০০৪৩ হতে ২৮ হাজার টাকা পাঠাই, পরবর্তীতে জানতে পারি আওয়ামী লীগ নেতা আলী আহম্মদ দেওয়ান ২টি নাম্বারে ৪২ হাজার টাকা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর বেপারী ৩টি নাম্বারে ৫৫ হাজার টাকা দিয়েছেন।

পরবর্তীতে রেড ক্রিসেন্ট পরিচয় দেয়া নাম্বারে যোগাযোগ করলে ২ নাম্বার বন্ধ পাই। বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা সকলেই বুঝতে পারি প্রতারণার শিকার হয়েছি।

হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুজন কান্তি বড়ুয়া জানান. এসএম কবিরের এজাহার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হাইমচর থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়, মামলা নং -০৮ তারিখ ১৯.৩.২০২০।

মামলা তদন্তে মোবাইল ট্র্যাকিং এর মাধ্যমে প্রতারক চক্রের ব্যবহার করা বিকাশ দোকান কক্সবাজার কলাতলি ও চকরিয়ায় অনুসন্ধানে বিকাশ মালিকের সূত্র জানায়, কক্সবাজার হোটেল সী পার্ল মালিক আশরাফ তার বন্ধুরা টাকা নিয়েছেন।

পুলিশ আশরাফকে আটক করলে আশরাফ জানায়, তার হোটেলে অবস্থান করা কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার বুড়ি পুকুর গ্রামের রাশেদা মেম্বারের পুত্র মিজানুর রহমান মিজান (২৫)সহ মানিক ও বাবু নামের ৩ প্রতারক রেডক্রিসেন্ট পরিচয়ে হাইমচরের ২জন প্রতিনিধি ও ১ আওয়ামী লীগ নেতার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়।

গত ২৯ জুলাই বুধবার সকালে প্রতারক মিজানকে বান্দরবন জেলার আলী কদম হতে আটক করা হয়। মিজান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার কথা স্বীকার করে। ৩০ জুলাই মিজানকে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আশরাফ বর্তমানে জামিনে রয়েছে। প্রতারক চক্রের প্রধান মিজান জেলহাজতে আছেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন