হাইমচরে মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় 

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুরের হাইমচর মাছঘাটে গত ২০ জানুয়ারি জাটকা ঝাটকা ইলিশ নিধন বিরোধী অভিযানে মৎস্য অফিসার মো. মিজানুর রহমান লাঠি দিয়ে বাচ্চু সরদার নামক এক মাছ ব্যবসায়ীকে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। আহত বাচ্চু সরদার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

জানা যায়, ২০ জানুয়ারি সকালে উপজেলা মৎস্য অফিসার মিজানুর রহমান মেঘনা নদীতে জাটকা নিধন বিরোধী অভিযান চলাকালে হাইমচর মাছঘাটে জেলেদেরকে দাওয়াত দেন। মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান লাঠি দিয়ে সামনে পড়া জেলে এবং পথচারীদের মারপিট করে। এ সময় মৎস্য কর্মকর্তার হাতে থাকা লাঠির আঘাতে বাচ্চু সরদার মাথায় জখম হন।

স্থানীয় লোকজন বাচ্চু সরদারকে হাইমচর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তার অবস্থা আরো গুরুতর দেখে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরন করেন। পরে গত ২১ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত বাচ্চু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আড়তদার মো. খাজে আহমেদ খাজা জানান, ঐদিন সকাল হাইমচর থানা পুলিশ ও উপজেলা মৎস্য অফিসার নেতৃত্বে হাইমচর বাজার মাছ ঘাটে ধাওয়া করলে মাছ ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যেতে গেলে মৎস্য অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান লাঠি দিয়ে বাচ্চু সরদার এর মাথায় আঘাত করে, আমরা তাকে হাইমচর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসলে তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে প্রেরন, সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরন করেন। সেখানে বাচ্চু সরদার মারা যায়।

তিনি আরো বলেন, উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ মিজানুর রহমানের লাঠির আঘাতে মাছ ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়া সরদারের মৃত্যু হয়েছে। মৃত বাচ্চু সরদার এর মাথায় আঘাত এর ফলে জখম স্থানে একাধিক সেলাই লেগেছে। আমরা হাইমচর উপজেলাবাসী এ হত্যার বিচার চাই।

নিহত বাচ্ছু সরদারের ছোট ছেলে মো. সুজন সরদার বলেন, আমার বাবাকে বিনা অপরাধে মৎস্য অফিসার মো. মিজানুর রহমান হত্যা করেছে। আমার বাবা একজন নিরীহ মানুষ তারা আমার বাবাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে মেরে ফেলেছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছে আমার বাবার মৃত্যুর বিচার চাই। এ ঘটনায় এলাকায় শোকে ছায়া নেমে এসেছে।

এ ব্যাপারে হাইমচর উপজেলা সিনিয়র (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মৎস্য অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঐদিন আমরা থাকালীন এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। আমার হাতে কোন লাঠি ছিল না। আমার সাথে হাইমচর থানার এসআই মোঃ আহ মান্নান ও কোস্টগার্ড ছিল। তারা কাউকে আঘাত করতে দেখিনি।

হাইমচর থানা অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, মৃত বাচ্চু সরদারের মেডিকেল সার্টিফিকেটে পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাই খোয়াইহলা চৌধুরী জানান, মৎস্য অফিসার কর্তৃক আঘাতের কোন তথ্য আমার কাছে নেই। পরিবারের অভিযোগ আমি খতিয়ে দেখব।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।