শাওন পাটওয়ারী :
জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত পৌরসভার মেয়র প্রার্থী আক্তার হোসেন মাঝি নির্বাচনী ইসতিয়ার ঘোষণা করেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় বিপণীবাগ এলাকার নির্বাচনী কার্যালয়ে আক্তার হোসেন মাঝি ইশতিহার ঘোষণা করেন।
নির্বাচনী ইশতিয়ারে তিনি বলেন, পৌরসভা শত বছরের নির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রয়াত রমনী মোহন রায়, মধূসুদন রায়, অক্ষয় কুমার দে, মরহুম এম এ ছালাম, আঃ করিম পাটোয়ারী, শামছুদ্দীন আহমেদ বি এ, নুরুল হক বাচ্চু মিয়াজী, ইউসুফ গাজী, শফিকুর রহমান ভূঁইয়া, বর্তমান মেয়র নাছির উদ্দীন আহমেদ জনগণকে সেবা দিয়ে গেছেন।
আমি কোনো অলিক স্বপ্নে বিশ্বাসী নহি, আমি স্বপ্ন পূরণে বিশ্বাসী। ইশতিহারে তিনি শপথ ও অঙ্গীকার করে বলেন, আমি দুর্নীতি করব না এবং কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না। দলমত বর্ণ নির্বিশেষে সবার প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবো। নির্বাচিত হলে চাঁদপুর পৌরসভার পথে-ঘাটে-রাস্তায় কোনো পানি জমতে দেব না। পূর্ণ জলাবদ্ধতা নিরসন করব। পৌরসভার ছোট-বড় সকল রাস্তা উন্নয়নের আওয়তায় আনা হবে।
পৌর এলাকায় বিদ্যুতের কোনো লোডশেডিং হতে দেব না। বাসস্ট্যান্ড থেকে বাবুরহাট পর্যন্ত ডিভাইডার দিয়ে ওয়ান ওয়ে রাস্তা তৈরী করা হবে। যানজট নিরসনের লক্ষ্যে দ্রæত গতিতে পৌরসভার পূর্বমুখী ৩টি রাস্তা সংস্কারসহ প্রয়োজনে আরো নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হবে। শহরের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি ও যানজট নিরসনের জন্য ৫নং ঘাট থেকে লন্ডনঘাট পর্যন্ত নদীর পাড় দিয়ে নতুন রাস্তা তৈরী করা হবে।
পৌরসভার প্রতি ইঞ্চি ভূমি উন্নয়নের আওতায় আনা হবে। দিনের বেলা কোন ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় থাকতে দেয়া হবে না এবং নিজে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো কাজ করবো। কোন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাসে ডাস্টবিন থাকবে না। শহীদ মুক্তিযুদ্ধা সংলগ্ন লেকের সৌন্দয্যবর্ধন করা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিকল্পিতভাবে কাঁচা বাজার প্রতিষ্ঠা করা হবে। পৌরবাসীর জন্য ২৪ ঘন্টা বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
পৌরবাসীর জন্য একটি বিনোদন পার্ক ২টি শিশু পার্ক প্রতিষ্ঠঠা করা করা হবে এবং চাঁদপুর শহরকে আধুনিক পর্যটন-বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পৌরসভার পূর্ব দিকে একটি নতুন কবরস্থান ও পুরাণবাজারে একটি শ্মশান নির্মাণ করা হবে। পুরাতন কবরস্থানগুলো সংস্কার করা হবে। পুরানবাজারে দাতব্য চিকিৎসালয়কে আধুনিক হাসপাতালে পরিণত করা হবে এবং পূর্বাঞ্চালে আরো একটি পৌর আধুনিক চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।
বিভিন্ন জায়গায় পাবলিক টয়লেট নির্মাণসহ মাদকমুক্ত চাঁদপুর শহর গড়ে তোলা হবে। অপরিকল্পিতভাবে অবৈধ বালু কাটা বন্ধ করে চাঁদপুর শহরকে মেঘনার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করা হবে। যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের জন্য চাঁদপুর পৌর বাসস্ট্যান্ডে আধুনিকায়ন করা হবে। পানির বিল হোল্ডিং ট্যাক্স ও যাবতীয় বিল নিজ নিজ এলাকায় ব্যাংকে অথবা পৌরসভার নিজস্ব অ্যাপসের মাধ্যমে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
জাতীয়তা, চারিত্রিক নাগরিক, জন্ম মৃত্যু এবং ওয়ারিসসহ অন্যান্য সনদপত্র প্রত্যেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে। পৌরসভার মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে আইসিটি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পৌরসভার অন্তর্গত প্রত্যেকটি স্কুল ও পাঠাগার যুগোপযোগী তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। বেকার সমস্যা সমাধানের জন্য শিল্প-কারখানা ও শিশু পার্ক স্থাপনের শিল্প উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিয়ে উৎসাহিত করা হবে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য একটি আইটি ট্রেনিং স্কুল স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। চাঁদপুর পৌর এলাকার সম্পূর্ণভাবে সিসি ক্যামেরা ওয়াইফাই জোন এর আওতায় আনা হবে।
তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে অভিযোগ করে বলেন, চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড বিরাজমান নেই। শত শত মোটর সাইকেল নিয়ে মিছিল করা হয়েছে। মতলবের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন রুহুল একজন সংসদ সদস্য হয়ে সদর উপজেলা মিলনায়তনে চাঁদপুর পৌরসভাস্থ মতলববাসীর কাছে নৌকার ভোট চান ও সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতারা বিশাল গাড়ি বহর নিয়ে নৌকার ভোট প্রার্থনা করে। যা সম্পূর্ণ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন। আমি লিখিতভাবে রিটার্নিং অফিসারের নিকট অভিযোগ করেছি। তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাড. সলিমুল্লাহ সেলিম, মাহবুব আনোয়ার বাবলু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জসীম উদ্দীন খান বাবুল, যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান মো. শফিকুউজ্জামান, ফেরদৌস আলম বাবু, অ্যাড. হারুনুর রশিদ, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন খান প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক মুনির চৌধুরী।