চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের গল্লাক আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অভিভাবক-এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ফরিদগঞ্জ উপজেলার গল্লাক আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে বার বার অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে কলেজের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় তদন্ত সম্পন্ন করে দ্রুত তার অবৈধ নিয়োগ বাতিল করা হোক।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৫নং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নে অবস্থিত গল্লাক আদর্শ (ডিগ্রি) কলেজে বিগত ২০২০ সালের ২০ জুলাই হরিপদ দাসকে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হওয়ার জন্য কাম্য অভিজ্ঞতা তার ছিল না। এর পূর্বে তিনি কোনো কলেজের অধ্যক্ষ বা উপাধ্যক্ষ ছিলেন না। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলীয় বিবেচনায় ও দলীয় আনুকূল্যে তার নিয়োগ হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তার অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথ বিধি অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন কলেজ গভর্নিংবডির সাবেক সভাপতি মো. মাহবুব মোরশেদ (কচি)।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্জ বরাবর ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ‘এমপিও নীতিমালা ২০১৮ এবং ২৫/০২/২০১৯ইং এর সংশোধিত পরিপত্র অনুযায়ী পরিশিষ্ট-ঘ এর খ) কলেজের ক্রমিক নং-(১) উপধারায় নিয়োগের জন্য যে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বর্ণিত রয়েছে তাহা পরিপালিত হয় নাই। এছাড়া অধ্যক্ষ নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি মনোনয়ন প্রসঙ্গে বিগত ১৬/০৩/২০২০ইং তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্মারক নং৩৭(১-১২১৪) জাঃবিঃ/কঃপঃ/কোড-৩৯৩০/৪৭৬৮ মূলে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) গল্লাক আদর্শ কলেজ এর বরাবর প্রদানকৃত চিঠিতে উল্লেখিত রেজুলেশন (সংশোধিত) ২০১৯ এর ০৪ এবং ০৫ ধারার উপধারা সমূহ কোনভাবেই লংঘন করা যাইবে না উল্লেখ করা থাকলেও উক্ত ধারাসমূহ পতিপালিত না করে অধ্যক্ষ নিয়োগের সুপারিশ করা হয়, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রনদিত এবং বেআইনি। যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-শাঃ/মামলা/৮-২৩৩/২০০৬/১১৯১, তারিখ : ১৮/০৯/২০০৬ইং অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

উল্লেখিত অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি উক্ত কলেজের বৃহৎ স্বার্থে সুষ্ঠুভাবে অতি দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করেন অভিযোগকারী।

উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৯ মার্চ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শন (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতিকে একটি চিঠি দেন। আনীত অভিযোগ বিষয়ে সভাপতির মতামত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হয় চিঠিতে। কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এরপরও অভিযুক্ত অধ্যক্ষ হরিপদ দাসের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি মো. মাহবুব মোরশেদ (কচি) গত ২ মে কলেজ গভর্নিং বডির বর্তমান সভাপতি তথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত চিঠি প্রদান করেন। যা ১০ মে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় কর্তৃক গ্রহণ করা হয়। চিঠিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত গত ৯ মার্চের চিঠির আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ‘ইতিপূর্বে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সাবেক সভাপতির নিকট একই বিষয়ে অভিযোগ করা হলে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল। তবে উক্ত তদন্ত কমিটি গঠন প্রক্রিয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি বহির্ভূত ছিল এবং তদন্ত রিপোর্টে অভিযোগকারীর বক্তব্যের কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে অভিযোগকারী উক্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে অনাস্থা জ্ঞাপন করে পুনরায় সুষ্ঠু তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন।’

এই চিঠিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রেরিত চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই অধ্যক্ষের বিধি বহির্ভূত নিয়োগের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। উল্লেখিত অবৈধ নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় যোগ্যতার ভিত্তিতে অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিযোগ ও এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত অধ্যক্ষ হরিপদ দাস তার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গল্লাক আদর্শ কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি সেটু কুমার বড়ুয়া রোববার রাতে চাঁদপুর প্রবাহকে জানান, বিগত ৯ মার্চ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিঠি দিয়ে তার কাছে যে মতামত চাওয়া হয়েছিল তিনি সেই মতামত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণ করেছেন। এখন বিশ্ববিদ্যালয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

শেয়ার করুন