নিজস্ব প্রতিবেদক
বছরের পর বছর একটি বাঁশের সাঁকোই ছিল ভরসা। বর্ষা এলেই সেই সাঁকো হয়ে উঠত আতঙ্কের নাম। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে রোগী বহন—সব ক্ষেত্রেই ছিল সীমাহীন দুর্ভোগ। একটি কালভার্টের অভাবে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল মতলব দক্ষিণ পৌরসভার উদমদী এলাকার আটটি গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
দীর্ঘদিনের সেই অপেক্ষার অবসান এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্রায় ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন কালভার্টটির কাজ শেষ পর্যায়ে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হলে শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগই দূর হবে না, বদলে যাবে পুরো এলাকার আর্থ-সামাজিক চিত্র।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এতদিন খালের ওপর বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলাচল করতে হতো। বিশেষ করে বর্ষাকালে খালের পানি বেড়ে গেলে ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যেত। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতে ভোগান্তিতে পড়ত, কৃষিপণ্য বাজারে নিতে হিমশিম খেতে হতো, জরুরি রোগী পরিবহনেও দেখা দিত চরম সংকট। অনেক সময় বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হওয়ায় সময় ও অর্থ—দুইয়েরই অপচয় হতো।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শাহজাহান সাগর বলেন,
“কালভার্ট না থাকায় এই এলাকার আটটি গ্রামের সহস্রাধিক মানুষকে দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা চাই, দ্রুত এর নির্মাণকাজ শেষ করা হোক।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বহু বছর ধরে তারা জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে উদ্যোগ নেওয়ায় এখন দৃশ্যমান হয়েছে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন। নির্মাণকাজ শেষের দিকে পৌঁছানোয় এলাকাজুড়ে স্বস্তি ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, কালভার্টটি চালু হলে আট গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন। কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সহজ হবে, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত নির্বিঘ্ন হবে এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনেও আর আগের মতো দুর্ভোগ পোহাতে হবে না। ফলে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে।
নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার মো. জহিরুল হক বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে বর্ষার মাঝেও কাজ চলমান রয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কালভার্টের কাজ সম্পন্ন হবে। কালভার্টটি আরও টেকসই করার লক্ষ্যে নির্ধারিত ড্রইংয়ের বাইরেও অতিরিক্ত বিমের কাজ করা হচ্ছে।
মতলব পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ফেরদৌস আহমেদ বলেন,
কালভার্ট নির্মাণকাজ শেষের পথে। এখন রেলিং ও রঙের কিছু কাজ বাকি আছে। খুব শিগগিরই পুরো কাজ শেষ হলে এলাকার মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী জানান, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। প্রায় ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে কোনো ধরনের মানের সঙ্গে আপস করা হচ্ছে না।
মতলব দক্ষিণ পৌরসভার প্রশাসক কে এম ইশমাম বলেন, এই কালভার্টের নির্মাণকাজ শেষ হলে ওই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে। কাজটি মানসম্মত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কোনো ধরনের ত্রুটি চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করে কালভার্টটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তাদের বিশ্বাস, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে এই একটি অবকাঠামোই উদমদী এলাকার আটটি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রায় নতুন গতি এনে দেবে এবং উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।