ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের যাত্রা শুরু

শনিবার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)-তে আনুষ্ঠানিকভাবে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ উদ্বোধন করা হয় এবং একইসঙ্গে “সুশাসন ও প্রতিষ্ঠানসমূহঃ বাংলাদেশে উন্নত সুশাসনের লক্ষ্যে জ্ঞান, নীতি ও অনুশীলনের সংযোগ” (Governance and Institutions: Connecting Knowledge, Policy and Practice for Better Governance in Bangladesh) শীর্ষক একটি জাতীয় গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আর কবির এবং উপ উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আমিনুল ইসলাম হলে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধারক, সুশাসন বিশেষজ্ঞ, উন্নয়নকর্মী, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের উন্নয়ন ভিশনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই করে তুলতে কার্যকর প্রতিষ্ঠান, প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা উদ্ভাবননির্ভর সুশাসনের ওপর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার, একাডেমিয়া, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের মধ্যে আরও শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি মত প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের এলডিসি-উত্তরণ, টেকসই অর্থনৈতিক রূপান্তর এবং উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও কার্যকর সুশাসনের কোনো বিকল্প নেই।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গঠন এবং জ্ঞানভিত্তিক নীতিনির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং থিংক ট্যাংকসমূহকে গবেষণালব্ধ তথ্য ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. সবুর খান বলেন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সামাজিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা, নীতি সংলাপ, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
ডিআইইউ-এর উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু জ্ঞান বিতরণের কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং নীতি উদ্ভাবন ও সামাজিক পরিবর্তনের চালিকাশক্তি হিসেবেও কাজ করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ দেশে সুশাসন, জননীতি, নেতৃত্ব উন্নয়ন এবং নির্বাহী শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, নীতি বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন অংশীদার এবং পেশাজীবীরা জনপ্রশাসন সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা, নিয়ন্ত্রক শাসনব্যবস্থা, ডিজিটাল রূপান্তর, জবাবদিহিতা, নাগরিকমুখী সেবা প্রদান এবং প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং একাডেমিয়া ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নবপ্রতিষ্ঠিত সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ গবেষণা, নীতি সংলাপ, নির্বাহী শিক্ষা, নেতৃত্ব উন্নয়ন এবং জ্ঞান বিনিময়ের একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। গবেষণা, প্রশিক্ষণ, প্রকাশনা, নীতি-আলোচনা এবং অংশীজন সম্পৃক্ততার মাধ্যমে কেন্দ্রটি বাংলাদেশের সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা জ্ঞান, নীতি ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

শেয়ার করুন