আল ইমরান শোভন >
অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়া এলাকার খোদেজা বেগম। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর স্বামী পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে ঘরে পড়ে আছেন। সন্তানদের দেখাশোনা ও সংসারের খরচ জোগাতে গিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁকে। এমন অবস্থায় সরকারি একটি প্রকল্পে কাজের সুযোগ পেলে সংসারে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছেন তিনি।
খোদেজা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে ঘরে পড়ে আছেন। ছেলে-মেয়ে ও অসুস্থ স্বামী নিয়ে বিপদে রয়েছি। সরকারি রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ পেলে আমি খুব উপকৃত হব।’
একই রকম প্রত্যাশা চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার হাফসা বেগমের। স্বামীহীন এই নারীকে সন্তানদের নিয়ে সংসার চালাতে হয়। নিয়মিত আয়ের সুযোগ না থাকায় পরিবারের ব্যয় মেটাতে কষ্ট হচ্ছে তাঁর।
হাফসা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী নেই। ছেলে-মেয়ে নিয়ে পরিবার চালাতে কষ্ট হয়। সরকারি এ কাজে আমাকে নেওয়া হলে পরিবারের জন্য বেশ উপকার হবে।’
খোদেজা ও হাফসার মতো অসচ্ছল নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে গ্রামীণ সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের আওতায় চাঁদপুর জেলায় ৯০০ নারী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে জেলার ৯০টি ইউনিয়নে ১০ জন করে নারী কাজের সুযোগ পাবেন। তাঁদের প্রত্যেকের মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার টাকা।
প্রকল্পের আওতায় চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে নিয়োগ দেওয়া হবে ১৪০ জন নারীকে। এ নিয়োগের জন্য আবেদন করেছেন ২২০ জন।
শনিবার চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আগ্রহী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাহাত আমিন পাটোয়ারী বলেন, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন থেকে ১৪০ জন নারী নিয়োগ দেওয়া হবে। বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, অসহায় ও দুস্থ নারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নির্বাচিত নারীরা গ্রামীণ সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত থাকবেন।
তিনি জানান, আগামী নভেম্বর মাসে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীরা কাজে যোগ দেবেন।
চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমা বলেন, এ কাজের মাধ্যমে অসহায় ও দুস্থ নারীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি নারীদের জন্য নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। মাসে ৯ হাজার টাকা করে আয় করতে পারলে এসব নারীর পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো সহজ হতে পারে। বিশেষ করে স্বামীহীন কিংবা অসুস্থ স্বামীর সংসারে থাকা নারীদের জন্য এই আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করতে যথাসময়ে নিয়োগ সম্পন্ন করা, নিয়মিত বেতন দেওয়া এবং কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকৃত অসচ্ছল ও দুস্থ নারীরা যাতে অগ্রাধিকার পান, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
খোদেজা ও হাফসার মতো নারীদের কাছে এই প্রকল্প শুধু কর্মসংস্থানের সুযোগ নয়, বরং পরিবার নিয়ে কিছুটা ভালো থাকার প্রত্যাশা। তাঁদের সেই প্রত্যাশা পূরণে প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।