এমপি মানিকের পৃষ্ঠপোষকতায় চাঁদপুর-৩ আসনের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫৭১ শিক্ষার্থীকে বর্ণিল সংবর্ধনা

চাঁদপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজ আছে, ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ^বিদ্যালয়ের চেষ্টা চলছে : এমপি মানিক

শাওন পাটওয়ারী :
সাফল্যের স্বীকৃতি পেতে শনিবার সকালে চাঁদপুর শহরের মুনিরা ভবনে জড়ো হয়েছিল শত শত কিশোর-কিশোরী। কারও হাতে সনদ, কারও হাতে সম্মাননা; মুখে ছিল গর্বের হাসি। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ার কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে চাঁদপুর-৩ আসনের (চাঁদপুর সদর-হাইমচর উপজেলা) ৫৭১জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে বর্ণিল সংবর্ধনা। তাদের সামনে ছিল উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন, আর বক্তাদের বক্তব্যে ছিল সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান।

চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় শহরের নতুন বাজার এলাকার মুনিরা ভবনে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চাঁদপুরে প্রথমবারের মতো সদর ও হাইমচর উপজেলার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের এত বড় পরিসরে একসঙ্গে সংবর্ধনা দেওয়া হলো। অনুষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী ছাড়াও তাদের অভিভাবক, শিক্ষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যা সেলিম। সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। তবে শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও ধর্মচর্চার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে।

তিনি বলেন, চাঁদপুর জেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১ হাজার ২২৪জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার ৫৭১জন কৃতী শিক্ষার্থীকে এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মানিত করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলকে উৎসাহিত করতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চাঁদপুরে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা বান্ধব সরকার। শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য চাঁদপুরকে আরও সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘লেখাপড়ার জন্য চাঁদপুর হবে ওয়ান স্টপ সার্ভিস।’

তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ ছাড়া উচ্চশিক্ষার অনেক ক্ষেত্রেই চাঁদপুরে প্রতিষ্ঠান রয়েছে। চাঁদপুর সরকারি কলেজ, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ, পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজ, হাইমচর কলেজসহ জেলার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার মান আরও উন্নত ও এক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে সরকার চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় করেছে। চাঁদপুর মেডিকেল কলেজেও ইতিমধ্যে একাধিক ব্যাচের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করেছেন। আগামী দিনে চাঁদপুর থেকেই বিসিএস কর্মকর্তা, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশায় দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও জানান তিনি। সেই চেষ্টাও চলছে।

শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল নয়, সামাজিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। বিশেষ করে মাদক, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাস থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি এসবের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের ভ‚মিকা রাখার কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। কোথাও মাদকের কর্মকান্ড দেখতে পেলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পাশাপাশি প্রয়োজনে ছবি বা ভিডিও করে প্রশাসনের কাছে পাঠাতে হবে।

শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, ‘মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও ভূমিদখলকারীদের চাঁদপুরে কোনো জায়গা হবে না।’
অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রথম ধাপে ৫০জন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীকে সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ করা যাবে না।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের দিকে চেয়ে আছে বাংলাদেশ।’ ভালো ফলাফলের পর আত্মতুষ্টিতে না থেকে নিজেদের যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, এসএসসির পর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভালো ফলাফল করতে পারলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের লক্ষ্যের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবে। এজন্য নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকা এবং মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা জরুরি।
প্রাইভেট পড়ার অজুহাতে শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত না থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষের পাঠের কোনো বিকল্প নেই। মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের সতর্ক হতে হবে।

আহসান পারভেজ বলেন, শিক্ষার কাজে মোবাইল ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু ফেসবুক, মেসেঞ্জারসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করলে শিক্ষার্থীরা জীবনে পিছিয়ে পড়বে। এসব আসক্তি থেকে দূরে থেকে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের আগ্রহই তোমাদের লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।’ নিজের লক্ষ্য ঠিক করে সেই অনুযায়ী পরিশ্রম করলে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

শিক্ষকদেরও শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বন জানান কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না; তিনি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখান এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন।

তাঁর মতে, একজন শিক্ষককে সময়ের সঙ্গে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে। মেধা ও দক্ষতা বাড়িয়ে স্মার্ট শিক্ষক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ফলাফলÑদুটিই বাড়বে। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে ক্লাস নিলে শতভাগ উপস্থিতি হবেÑএটা আমি বিশ্বাস করি।’

অনুষ্ঠানে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত দুটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। গাছ লাগানোর পর ছবি তুলে পাঠানোর কথাও বলেন তিনি। এসব ছবি সংরক্ষণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এছাড়া প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বালু কাটা বা কোনো জায়গা ভরাট না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। এ ধরণের কাজে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মশারির নিচে ঘুমানোর পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে।

অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের কয়েকজন নিজেদের অনুভ‚তি প্রকাশ করেন। মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের জান্নাতুল মাইশা, চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ফাহিম আফরান খান, চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেহজাবিন ইসলাম, চাঁদপুর ড্যাফোডিল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তাজবীর হান্নান, নীলকমল মাদ্রাসার ফারিহা এবং হাইমচর চরভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেহজাবিন ইসলাম বক্তব্য দেন।

তাদের বক্তব্যে ছিল ভবিষ্যতে আরও ভালো করার প্রত্যয়। এসএসসির ফলাফলকে জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে না দেখে উচ্চশিক্ষায় আরও ভালো ফল করার পাশাপাশি দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছার কথাও জানান তারা।
কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য দেন জোছনা আক্তার মমতাজ, রতন কুমার বাইন ও রাশেদুল ইসলাম। সন্তানদের সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এমন আয়োজন করায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন চাঁদপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. হারুনুর রশিদ, চান্দ্রা ফাজিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক এ টি এম মোস্তফা, লেডি প্রতিমা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোরশেদা ইসলাম এবং হাইমচর বাজাপ্তি রমণী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান।

অনুষ্ঠানে চাঁদপুর জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জেলা বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন খান বাবুল, দেওয়ান মো. সফিকুজ্জামান, অ্যাডভোকেট এ টি এম মোস্তফা কামাল, খলিলুর রহমান গাজী, মুনির চৌধুরী, আলহাজ¦ মোশাররফ হোসেন, ফেরদৌস আলম বাবু, আমিন উল্যা বেপারী, ডি এম শাহাজাহান, সেলিমুছ সালাম, আক্তার হোসেন মাঝি, অ্যাডভোকেট হারুন উর রশিদ, অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন বাবরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এছাড়া জেলা কৃষক দলের সভাপতি এনায়েত উল্যা খোকন, জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মাও. জসীম উদ্দিন পাটোয়ারী, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শিরীন সুলতানা মুক্তা, জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৫৭১ শিক্ষার্থীর এই সংবর্ধনা কেবল ভালো ফলাফলের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়; শিক্ষার্থীদের সামনে তাদের ভবিষ্যৎ দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেছে। বক্তাদের বক্তব্যে বারবার এসেছেÑশুধু জিপিএ-৫ পেলেই সাফল্য পূর্ণ হয় না। এই ফলাফলকে ভিত্তি করে উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাওয়া, দক্ষতা অর্জন, নৈতিক মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তোলা এবং দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করাই হবে পরবর্তী লক্ষ্য।

মুনিরা ভবনের অনুষ্ঠানস্থলে শনিবারের সকালটি তাই ছিল মেধা, স্বপ্ন ও প্রত্যয়ের। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে যখন সম্মাননা তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখন তাঁদের চোখেমুখে ছিল অর্জনের আনন্দ। আর সেই আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছিল নতুন দায়িত্ব নিজেদের আরও যোগ্য করে তোলা এবং একদিন চাঁদপুরের গন্ডি পেরিয়ে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার।

শেয়ার করুন