বিশেষ প্রতিবেদক :
আগামী ১ আগস্ট চাঁদপুরসহ সারাদেশে একযোগে ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি’ শুরু হচ্ছে। দেশজুড়ে প্রথম বারের মতো সমন্বিত এই পরিবার শুমারি পরিচালনা করা হবে। মাঠপর্যায়ে প্রকৃত উপকারভোগী নির্ধারণে আধুনিক ডাটাবেজ তৈরি করা হবে এই শুমারির মাধ্যমে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে দেশের সব পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে, তবে ভাতা পাবেন শুধু নিম্নআয় ও অসচ্ছল পরিবারগুলো। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা দেড় মাস এই শুমারি চলার কথা রয়েছে। সে হিসেবে চাঁদপুরের ধনী-গরীব-মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত নির্বিশেষে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুর দিকে (১ আগস্ট থেকে) সারাদেশে সমন্বিত পরিবার শুমারি পরিচালনা করা হবে, যার মাধ্যমে আনুমানিক ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই শুমারির ওপর ভিত্তি করে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে আধুনিক ডাটাবেজের আওতায় এনে আগামী ৪ বছরের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা দেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ের জরিপ এবং প্রক্সি মিনস টেস্ট বা পিএমটি স্কোরের মাধ্যমে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নির্বাচন করা হবে।
সূত্র আরো জানায়, দেশের নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই দেশব্যাপী ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় দেশের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলায় তিন ধাপে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ৬৯ হাজার ৩৮৭জন নারী-প্রধান পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভাতা বিতরণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদপুর সফরকালে গত ১৬ মে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ (২য় পর্যায়ের পাইলটিং) ও কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পাইলট প্রকল্পে চাঁদপুর সদরের রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে জরিপ করে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয় ওইদিন।
জেলা সমাজসেবা অফিস জানায়, তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নির্দেশিকা, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। এছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ এর খসড়া মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন শেষে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
সূত্র মতে, আজ ২৮ জুলাইল সকাল ১০টায় শেষ হচ্ছে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ পদে আবেদনের সময়সীমা। এরপর আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে চলতি মাসের মধ্যেই তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ করা হবে। সমানসংখ্যক আবেদনকারীকে মনোনীত করে অপেক্ষমান তালিকায় রাখা হবে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ছিল এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’। ইশতেহারে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে একটি একক ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এনে সব ধরণের সরকারি ভাতা, খাদ্য সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা সমন্বিতভাবে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার গঠনের পর প্রথমে সীমিত পরিসরে পাইলট প্রকল্প চালু করা হলেও এখন ধাপে ধাপে উপকারভোগী নির্বাচন, কেন্দ্রীয় এমআইএস ডাটাবেজ তৈরি এবং দেশব্যাপী সম্প্রসারণের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামিউল হিকমা জানান, তথ্য সংগ্রহকারীরা সরকার প্রদত্ত ট্যাবের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি বাড়িতে/বাসায় (খানায়) গিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থা ও সম্পদের তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেজে যুক্ত করবেন। প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্য একটি সূত্র জানায়, সব পরিবার শুমারিরর আওতায় থাকলেও কার্ড পাবেন শুধু যোগ্যরা। সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রক্সি মিনস টেস্ট স্কোর যাচাই করা হবে। সরকারি নিয়ম বা ড্রাফট নীতিমালা অনুযায়ী, সচ্ছল পরিবারগুলোকে এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। যেমন সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগী পরিবার। প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক, যাদের নিজস্ব গাড়ি, এসি বা বিলাসবহুল সম্পদ রয়েছে তারাও এই সুবিধার বাইরে থাকবেন।
এ সংক্রান্ত চাঁদপুর সদর উপজেলা কমিটির এক সভা গতকাল সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. এন জামিউল হিকমা। কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহবুব আলমের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন কমিটির সদস্য যথাক্রমে কাজী শাহাদাত, দেওয়ান শফিকুজ্জামান, আক্তার হোসেন মাঝি, রহিম বাদশা, শরীফ উদ্দিন পলাশ, আলমগীর আলম জুয়েল প্রমুখ।

