চাঁদপুরের এক ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দী গলাকাটা লাশ উদ্ধার

সুজন পোদ্দার :
চাঁদপুরের কচুয়ায় পৌরসভাধীন কচুয়া বাজারে অবস্থিত ইকরা ভ্যারাইটিজ স্টোরের স্বত্বাধিকারী আবুল বাশার (৩৮) নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘন্টা পর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করলো পার্শ্ববর্তী দাউদকান্দি থানা পুলিশ।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় আবুল বাশার শনিবার সকাল বেলা তার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে আসে। দুপুরে তার নিজ বাড়ি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান হতে ৩ কিলোমিটার দূরে কচুয়া পৌরসভাধীন কোয়া চাঁদপুর গ্রামে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য যায়। খাবার খেয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ফিরত না আসায় দোকানের কর্মচারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে তার মোবাইলে ফোন দেয়।

ফোনে তাকে না পাওয়ায় তার স্ত্রীকে জানানো হয় যে বাশারের ফোন বন্ধ ও এখন পর্যন্ত দোকানে পৌঁছেনি। আত্মীয়স্বজনরা তাকে চারদিকে খোঁজাখুজি শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত নিখোঁজ আবুল বাশারের সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি কচুয়া থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়।

পুলিশ অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে চারদিকে খুঁজতে থাকে। পুলিশ অনুসন্ধানে জানতে পারে বিকেল বেলা কচুয়া বাইপাস সড়কে কড়ইয়া গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে মৎস্য আড়তদার মুসা (২০) নামের এক মাছের আড়ৎ ব্যবসায়ীর সাথে তাকে দেখা যায়।

কচুয়া থানার পুলিশ সেই সূত্র ধরেই শনিবার রাত ৩টায় কচুয়া বিশ্বরোডে অবস্থিত মুসার মাছের আড়তে অনুসন্ধান চালিয়ে আবুল বাশারের রক্তভেজা লুঙ্গি, গামছা ও বিছানার চাদরসহ দেওয়ালের বিভিন্ন স্থানে রক্তের চিহ্ন দেখতে পায়।

সেই সূত্র ধরেই মুসার মুঠোফোনে কচুয়া থানা পুলিশ একাধিকবার আবুল বাশারকে কচুয়া থানায় নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করে। রাত ১২টার পর মুসার মুঠোফোনে ফোন গেলেও সে কারো ফোনই রিসিভ করেনি। সেই সূত্র ধরেই কচুয়া থানা পুলিশ আশপাশের সকল থানায় ব্যবসায়ীর নিখোঁজ সংবাদ ও ছবি পাঠিয়ে দেয়।

কচুয়া থানা পুলিশ রোববার বিকেল ৩টায় সংবাদ পায় দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর গ্রামে একটি বস্তাবন্দী গলাকাটা লাশ পাওয়া গেছে। সেই সংবাদের ভিত্তিতে কচুয়া ও দাউদকান্দি থানা পুলিশ ফিংগারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিখোঁজ বাশারের মরদেহ শনাক্ত করে।

এদিকে নিহত বাশারের গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। আবুল বাশার কোয়া চাঁদপুর হাজীবাড়ির মৃত আঃ মান্নানের ছেলে। তার স্ত্রী, ১ ছেলে ও ২ মেয়ে সন্তান রয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে উত্তাল জনতা বিক্ষোভ মিছিল করে।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিউদ্দিন জানায়, নিখোঁজ বাশারের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লার মর্গে লাশ প্রেরণ করা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের একটি ঊর্ধ্বতন টিম হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।