চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে করোনার উপসর্গে এক দিনে ৪জনের মৃত্যু

জহিরুল ইসলাম জয় :
রোববার এক দিনে হাজীগঞ্জের ৪জন করোনার উপসর্গে মারা গেছেন। এর মধ্যে ২জন চাঁদপুর সরকারি জেনারেল (সদর) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায়, ১জন হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ১জন নিজ বাড়িতে মারা গেছেন। এ নিয়ে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সর্বশেষ রোববার রাত ৮টার দিকে মকিমাবাদ এলাকার শাহাদাত হোসেন (৪০) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যান। সন্ধ্যায় তিনি করোনার উপসর্গ (জ্বর ও শ্বাসকষ্ট) নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। শাহাদাত বৈশাখী বাস কাউন্টারে চাকুরি করতেন। তার নমুনা নেয়া হয়েছে।

এর আগে দুপুরে হাজীগঞ্জে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ ও আক্রান্তে মৃতদের দাফনে নিয়োজিত মোঃ রফিকুল ইসলাম (৪৮) মারা যান। তিনি উপজেলার করোনাকালীন বিশেষ দাফন টিমের ১১জন স্বেচ্ছাসেবীর একজন ছিলেন।

হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের ধেররা বিলওয়াই গ্রামের নিজ বাড়িতে রোববার (৩১ মে) দুপুর ১টার দিকে তিনি মারা যান। তার কোন করোনার উপসর্গ লক্ষ্য করা না গেলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, করোনায় আক্রান্ত হয়েই মারা গেছেন তিনি। তার নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

হাজীগঞ্জ উপজেলায় ১১জন মিলে করোনাকালে মৃতদেহ দাফন ও নামাজের জানাজা পড়ানোর ঘোষণা দেন। ওই ১১ জনের মধ্যে রফিকুল ইসলাম একজন ছিলেন। তিনি হাজীগঞ্জ বাজারের আল আকসা টেইলার্সের ‘রফিক ভাই’ বলে সবার কাছে বেশ পরিচিত।

তার সহস্বেচ্ছাসেবী শরীফুল হাছান বলেন, রোববার সকালে রফিক ভাই অসুস্থ বোধ করেন। নিজেই ছেলেকে নিয়ে বাজারে এসে কয়েকজনের ঋণের টাকা পরিশোধ করেন। পরে বাসায় গিয়ে জিকির করতে করতে দুপুর ১টায় রফিক ভাই মারা যান।

উল্লেখ্য, হাজীগঞ্জ উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত ও করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত প্রায় ১০জনের দাফন কাজে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি।

এছাড়া চাঁদপুর সরকারি জেনারেল (সদর) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে করোনার উপসর্গে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার হাজীগঞ্জের আরো ২জন মারা যান।

রোববার সকালে ভর্তির ৫০ মিনিটের মাথায় মারা যান মোস্তফা কামাল (৬০)। তিনি করোনার উপসর্গে ভুগছিলেন। হাসপাতাল সূত্রে জানায়, হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা এলাকার সাতবাড়িয়া গ্রামের মোস্তফা কামাল করোনার উপসর্গ নিয়ে রোববার সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালে আসেন। আইসোলেশনে ভর্তির পর সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের সময় তিনি মারা গেছেন। তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় দাফন করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিকেল ৩টার সময় একই উপজেলার মকিমাবাদ এলাকা থেকে আব্দুল কাদের পাটওয়ারী (৬৫) নামের এক লোক একই উপসর্গ নিয়ে সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হন। তাকে অক্সিজেন দেয়ার পরপরই তিনি মারা যান। তিনি মাত্র ১০ মিনিট আইসোলেশনে ছিলেন। তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিশেষ ব্যবস্থায় দাফন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন