চাঁদপুরে ৩ দিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৪জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক/সুজন পোদ্দার :
চাঁদপুরে গত ৩ দিনে (৯-১১ জুন) পৃথক বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় ৪জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কচুয়ার ১জন, চাঁদপুর সদর উপজেলার ২জন ও মতলব দক্ষিণের ১জন রয়েছেন। এসব মৃত্যুর ঘটনায় স্ব স্ব পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শুক্রবার কচুয়া উপজেলার রহিমানগর বাজারের মোবাইলফোন ব্যবসায়ী রিপন হোসেন (৩৭) বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেছেন।তিনি গোহট উত্তর ইউনিয়নের খিলা গ্রামের প্রধানীয়া বাড়ির মৃত হাসেম প্রধানীয়ার ছেলে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিজ বাড়িতে পানির মটরের সুইচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়। মৃত্যুকালে রিপন স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

রিপনের বড় ভাই কামাল প্রধানীয়া জানান, ৫ ভাই ২ বোনের মধ্যে সে চতুর্থ। রিপন রহিমানগর বাজারের সাতবাড়িয়া রোডে জেরিন টেলিকম নামের মোবাইলফোনের দোকান পরিচালনা করতো। ঘটনার দিন সকালে রিপন খিলা গ্রামের তার নতুন বাড়িতে পানির মটরের সুইচ দিতে গিয়ে অসতর্কতাবশত বৈদ্যুতিক তারের মধ্যে হাত দেয়। এতে সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পরে পরিবারে লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হলে ওই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আমরা কচুয়া থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেছি।

এর আগে বৃহস্পতিবার চাঁদপুর সদর উপজেলায় পৃথক দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রুবেল মৃধা (১৯) ও রফিকুল ইসলাম (৫০) নামে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে আশিকাটি ইউনিয়নের উত্তর সেনগাঁও মৃধা বাড়িতে এবং মৈশাদী মিজি বাড়িতে এ দু’টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, নিহত রুবেল মৃধা নিজ বাড়িতে বড় ভাইয়ের মুরগির ফার্ম পরিষ্কার করতে গিয়ে হঠাৎ বিদ্যুৎপৃষ্ট হলে তাদের একতলা বিল্ডিং এর উপর থেকে নিচে পড়ে যায়। পরে বাড়ির লোকজন দ্রæত চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে জানান।

নিহত রুবেল উত্তর সেনগাঁও গ্রামের নাসির মৃধার মেঝো ছেলে। সে বাবুরহাট কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। অপর ঘটনাটি ঘটে মৈশাদী নিজের বাড়িতে। রফিকুল ইসলাম বাড়িতে ধান শুকাতে বড় স্ট্যান্ড ফ্যানের চালাতে গিয়ে কার লীগের মধ্যে বিদ্যুৎ পিষ্ট হয় মাটির লুটিয়ে পড়ে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চাঁদপুর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান। নিহত রফিকুল ইসলাম মজিবারের মৃত সেকান্দার আলীর ছেলে তিনি চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন কর্মচারী বলে জানা যায়।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. তৌহিদুল ইসলাম খান জানান, একজন ইয়ং অপরজন বৃদ্ধ এ দু’জনকে এক ঘন্টার ব্যবধানে ইলেকট্রিক সর্টে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেছি।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুজন কান্তি বড়ুয়া জানান, নিহতের স্বজনরা এডিএম বরাবর পোস্টমর্টেম না করার জন্য লিখিত আবেদন করলে তদন্ত সাপেক্ষ তা মঞ্জুর করায় মৃতদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পৃথক দু’টি জিডি হয়েছে।

অন্যদিকে বুধবার চাঁদপুরে রড কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। তার নাম সাজ্জাদ (২৮)। ওইদিন সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়া করবন্দ পাটওয়ারী বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাজ্জাদ পার্শ্ববর্তী মতলব দক্ষিণ উপজেলার করবন্দ গ্রামের আবুল কাশেমের ছোট ছেলে।

নিহতের সহকর্মী ইয়াসিন জানান, তারা ৪জন স্থানীয় পাটওয়ারী বাড়িতে তিন দিন ধরে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ করছিলেন। বুধবার সকালে তারা রড কাটতে সুইচ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার সময় হঠাৎ করে সাজ্জাদ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাকে দ্রæত উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল (সদর) হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

সদর হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তার ফরহাদ উল করিম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সাজ্জাদের মৃত্যু হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন