<<নাসির উদ্দিন পাঠান>>
প্রবীণ সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য সাংবাদিক শফিকুর রহমান ভাই। ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতিও। জীবদ্দশায় তাঁর সঙ্গে আমার দেখা বা সাক্ষাৎ হয়েছে হাতে গোনা দু-একবার। কিন্তু জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে তাঁর প্রতি আমার দূর থেকেই একধরনের গভীর শ্রদ্ধাবোধ ছিল। হয়তো নিজে একজন গণমাধ্যমকর্মী বলেই সাংবাদিকতার অঙ্গনে তাঁর অবস্থান ও নেতৃত্বের প্রতি এই শ্রদ্ধা অনুভব করতাম।
তিনি যখন জাতীয় প্রেসক্লাবে আসতেন কিংবা চাঁদপুরে যেতেন, তাঁকে ঘিরে সাংবাদিকদের ভিড় জমত। সাংবাদিক নেতা হিসেবে তাঁর কাছে ছুটে আসতেন সহকর্মীরা। আর সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁকে ঘিরে থাকতেন রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও নানা সুবিধাভোগী মানুষের ভিড়।
কিন্তু আজ তাঁর শেষ বিদায়ে দাঁড়িয়ে এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হলাম। জীবদ্দশায় যাঁকে ঘিরে এত মানুষের সমাগম দেখেছি, শেষ বিদায়ের মুহূর্তে সেই পরিচিত মুখগুলোর অনেককেই আর দেখা গেল না। পাশে রইলেন তাঁর পরম আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী—যাঁরা আপনজনের মতোই তাঁকে শেষ বিদায় জানাতে এসেছেন।
কোনো এক অজানা মায়ার টানে আমিও উপস্থিত হয়েছিলাম অগ্রজ এই সাংবাদিকের শেষ বিদায়ে। শেষ পর্যন্ত যখন সবাই একে একে চলে গেলেন, তখনও কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি আর বাসসের আব্দুল সালাম আজাদ জুয়েল। চারপাশের মানুষ যখন ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন আমরা দুজন নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলাম তাঁর কবরের পাশে।
ফেরার সময় নিজের মনেই প্রশ্ন জাগল—কেন এতক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম? তাঁর সঙ্গে তো আমার ঘনিষ্ঠতা ছিল না, ছিল না দীর্ঘদিনের ওঠাবসা কিংবা ব্যক্তিগত কোনো স্মৃতির ভান্ডার। তবু কেন এই মায়া, কেন এই নীরব টান?
হয়তো এর নামই অগ্রজের প্রতি অনুজের শ্রদ্ধা। হয়তো সাংবাদিকতার একই অঙ্গনে পথচলার এক অদৃশ্য আত্মিক বন্ধন। সম্পর্ক সব সময় ঘনিষ্ঠতার মাপে পরিমাপ করা যায় না; কখনো কখনো শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার টান নীরবেই হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানুষের চারপাশের ভিড় আর প্রকৃত আপনজনের পার্থক্যটাও যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পদ-পদবি, ক্ষমতা কিংবা প্রাপ্তির আকর্ষণে গড়ে ওঠা সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে; কিন্তু শ্রদ্ধা ও আত্মিক টান থেকে যায় হৃদয়ের গভীরে।
এই রকম একটা টানেই হয়তো চাঁদপুরের স্বনামধন্য সাংবাদিক রহিম বাদশা ও আহসান উল্লাহও জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কয়েক ঘন্টা আগেই উপস্থিত হন,শফিক ভাইয়ের গ্রামের বাড়িতে। তাঁরাও ছিলেন অনেকটা সময়। শফিক ভাইকে সমাহিত করেই তাঁরা ফিরেছেন। তাদের সাথে সাংবাদিক তালহা জুবায়ের, মোরশেদ আলম, মাসুদ আলম, মো. রাজন, ফরিদগঞ্জ থেকে মো: মহিউদ্দিন, আমান উল্লাহ আমান, শিমুল হাসান, ইকবাল হোসেন, শামীম হাসান, শাকিল মুশফিক, আল আমিন হাসান, ফারাবী, এফ এ মানিক, মামুন হোসেনসহ বেশ কয়েকজন।
সব শেষ পরপারে ভালো থাকবেন, সাংবাদিক শফিকুর রহমান ভাই।
আপনার প্রতি একজন অনুজ গণমাধ্যমকর্মীর বিনম্র শ্রদ্ধা। আপনার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়—একজন অনুজ।
বি; দ্র: শফিক ভাইয়ের শেষ বিদায়ে উনার রাজনৈতিক অনেক সহকর্মীও উপস্থিত ছিলেন। ঢাকার জানাজায় অনেকে উপস্থিত ছিলেন। লেখাটা যেহেতু আমাদের সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা নিয়ে তাই উনাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।